বাংলা সিনেমা

Monday, February 16, 2009

টেলিেস্কাপে এ বার টালিগঞ্জ ইণ্ডািষ্ট্রর ছায়াপথ


১৯ পৌষ ১৪১৫ শনিবার ৩ জানুয়ারি ২০০৯


ত্রিকার টেলিেস্কাপে এ বার টালিগঞ্জ ণ্ডািষ্ট্র ছায়াপথ কোন গ্রহ-নক্ষত্র-নীহারিকার রহস্যময় টানে সেখানে সারা বছর ঘটতে থাকে বিগ ব্যা তৈরি হয় অফুরান শক্তির ভাণ্ডার! সেই গোপন মহাজাগতিক বিক্রিয়াই তো নির্ধারণ করে দেয় টালিগেঞ্জ সারা বছরের কক্ষপথ আর, গত ২০০৮-এর সেই আবর্তন দেখতে দেখতেই এই তালিকাচূড়ান্ত কিছু নয়, ফেলে-আসা বছরের মানদণ্ডেই নির্ধারিত হল এই সেলিিব্রটি-তালিকা

আগামী বছর হয়তো নতুন কেউ ধরা দিতে পারেন এই লেেন্স, কেউ আবার ছিটকে যেতে পারেন নিজের কক্ষপথ থেকেমহাজাগতিক শক্তিপুেঞ্জ এ রকমই নিয়ম!

আলো ছড়ানো কয়েকটি নক্ষত্রকে ইচ্ছা করেই এই তালিকায় রাখা হয়নিসৌমিত্র চেট্টাপাধ্যায় এই বছরেই জাতীয় পুরস্কারে ম্মানিত, কিন্তু তিনি তো কিবদিন্ত! এই ছায়াপথের কয়েক আলোকবর্ষ দূরে তার বাসরাখা হল না মিঠুন চক্রবতর্ীকেওএম এল এ ফাটাকেষ্টএখন বালা ছবির দুনিয়ায় প্রায় স্বচ্ছাবসরে, তার দিকে টেলিেস্কাপ তাক না করাই যুক্তিসঙ্গত আর, শেষে আমরাই চমকে গিয়েছিক্ষমতাবানদের তালিকায় আচমকা ঢুকে পড়েছে এক জড় পদার্থ তামিল, তেলুগু ছবির ডিভিডি! টলি-আকাশে কোথা থেকে যে কী অজানা শক্তি বিচ্ছুরিত হয়!

আপাতত দেখে নেওয়া যাক, টলি-আকাশে শক্তির উৎস!

(বা দিক থেকে) স্বপন সাহা, প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রাজীব চেট্টাপাধ্যায়, ঞ্জ দত্ত,
মহেন্দ্র সোনি, শ্রীকান্ত মোহতা, কোয়েল মিল্ল, ঋতুপর্ণ ঘোষ, এন কে সলিলছবি: রানা বসু

পাওয়ার লিস্ট ২০০৮

প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায়
মণি-শ্রীকান্ত
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
স্বপন সাহা
ঋতুপর্ণ ঘোষ
কোয়েল মিল্ল

ঞ্জ দত্ত
জি মোশন পিকচার্স
এব
রাজীব চেট্টাপাধ্যায়
এন কে সলিল
১০ তামিল-তেলুগু ডিভিডি

প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায়

কেন তিনি এখানে: পচিশ বছর পরেও যে হারে কাজ করে চলেছেন, তাতে টালিগেঞ্জ কলাকুশলীরা তাকে ডুরাসেলব্যাটারির সঙ্গে তুলনা করেনইট জাস্ট গোজ অন অ্যাণ্ড অন

তবে এ ভাবেও ফিরে আসা যায়! কারণ ২০০৬-এ এই তালিকা তৈরি হলে মোটেও প্রথম স্থানে থাকতেন না প্রসেনজিৎ তখন বালা ছবির মধ্যগগনে মিঠুন চক্রবর্তীম্যাটিনি আইডলকিন্তু ভাগ্যের চাকা, মিঠুন নিলেন টালিগঞ্জ থেকে এক রকম েস্বচ্ছাবসর বেশ কিছু ছবি ফ্লপও হল মিঠুনের প্রসেনজিতের ছবি তখন ফের গমগম করে চলছেআর তার পর থেকেই একবাক্যে মিস্টার টলিউড প্রসেনজিৎ এখন সব মিলিয়ে তার হাতে ১৩-১৪খানা ছবি আজকের প্রসেনজিৎ কৈখালি থেকে কান-এর রেড কার্পেট, সব জায়গাতেই সাবলীল

তুরুপের তাস: স্বপন সাহার পাশাপাশি ঋতুপর্ণ ঘোষঞ্জ দত্তের পাশাপাশি বাপ্পাদিত্য বেন্দ্যাপাধ্যায় পিশ্চ বালায় তার ভক্তের সখ্যা অগণিতআর সেটাকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটতে ৩০ থেকে ৭০ সব বয়সী পরিচালকই চান বুম্বাদার সঙ্গে ছবি করতে


টালিগেঞ্জ মত: প্রসেনজিতের বিকল্প নেই আর আজ তার জুটিরও প্রয়োজন নেইএকাই একশো বুম্ব তবে প্রসেনজিৎও দিন দিন ষ্ট্র্যাটেজি বদলাচ্ছেনপুরনোদের পাশাপাশি নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতেও দারু উৎসাহী তিনিউদীয়মান পরিচালকেরা আড্ডায় বলেন, প্রতি মাসে তিনি, তিন থেকে চার জন নতুন পরিচালককে এসএমএস করে জিেজ্ঞ করেন—‘‘আমরা কবে থেকে একসঙ্গে কাজ করব?’’

ফাকফোকর: বয়স বাড়ছেকলেজ স্টুডেেন্ট রোল আর তার জন্য নয়চিনি কম’-এর অমিতাভ বচ্চন শাহরুখেরচক দে ইিণ্ডয়া কবীর খানের মতো রোল তিনি পাচ্ছেন নাএটাই তার কাছে সব চেয়ে বড়থ্র

অজানা তথ্য: প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায় যেখানেই যান, তার পোর্টেবল ডিভিডি েপ্লয়ারটি সঙ্গে নেনদ্রলোক এতটাই সিনেমার পোকা যে, স্ত্র অর্পিতা অন্তঃত্ত্ব থাকার সময়ে টিভি চালিয়ে সিনেমা দেখলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে বলে তিনি এই যন্ত্রটি বিদেশ থেকে আনিয়েছিলেনযাতে রাত জেগে সিনেমা দেখার রুটিনে বাধা না পড়ে

মণি-শ্রীকান্ত

কেন তারা এখানে: ফর্মাল পোশাক পরিহিত এই দুই ভদ্রলোককে দূর থেকে দেখলে বহুজাতিক ব্যাঙ্কের পদস্থ কর্মচারী বলে ভুল হতে পারেকিন্তু টালিগেঞ্জ এরাই হলেন এক নম্ব প্রযোজক জুটিভেঙ্কটেশ ফিল্ম শুধু প্রযোজক হওয়ার দরুনই এই পাওয়ার লিেস্ট দুম্বরে জায়গা পেয়েছেন, তা কিন্তু নয়এর সঙ্গে যোগ করু ওঁদের অসম্ভ শক্তিশালী ডিিষ্ট্রবিউশন নেটওয়ার্ক, নিজেদের মিউজিক চ্যানেলএব সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হল, পিশ্চমবঙ্গের প্রতিটি হল মালিককে নামে চেনাঅচেনা ছেলেমেয়েদের সুপারস্টার করে তোলার ক্ষমতা আছেযেমন করেছিলেন জিৎকে (মনোমালিন্যের আগে), এখন যেমন করছেন দেবকে

তুরুপের তাস: বালা বাজারকে হাতের তালুর মতো চেনেনতাই লড়াইয়ের পর সাফল্যের চূড়ায় এরাইএকটা সময় ছিল, যখন বহু হল মালিক এব পরিবেশক তাদের বিস্ত ঠকিয়েছিলেনসেই ভুলগুলো থেকে তারা শিখেছেন, ত্রুদের চিনেছেনতাই তারা এখন অনেক বেশি কঠোর প্রতিদ্বন্দ্ব প্রযোজকদেরও ছবির ব্যাপারে এব আর্থিক ভাবে সাহায্য করার একটা অদ্ভু ক্ষমতা আছে তাদের

টালিগেঞ্জ মত: আজ এমন উচ্চতায় পৌছেছেন, পরিবেশকেরা মণি-শ্রীকােন্ত সঙ্গে আলোচনায় না বসে কলকাতায় ছবি রিলিজ করার কথা ভাবতেও পারেন নাঅত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনআর তাই প্রত্যন্ত সব অঞ্চলেও কিউব এব অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি দেখানবালা টেলিভিশনে তাদের পদার্পণ রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দিয়েছে অভিজ্ঞ টেলিভিশন প্রযোজকদের মনেঅনেকেরই ধারণা, কয়েক বছরের মধ্যেই বালা ছবির মতো বালা টেলিভিশনেও এরাই একচ্ছত্র আধিপত্য করবেন

ফাকফোকর: নিজেদের হলে নিজেদের ছবি টাঙিয়ে রেখে হিট দেখানোর চেষ্ট ঢাকা যাচ্ছে নাছলেবলে, যেনতেন প্রকারেণ বালা ছবির বাজার নিজেদের হাতের মুঠোয় রাখার চেষ্ট এর জন্য টালিগেঞ্জ বাকি প্রযোজকেরা নিজেদের মধ্যেকার ঝগড়াবিবাদ ভুলে একজোট হয়ে ভেঙ্কটেশ ফিল্মসকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছেনঅনেক শত্রু তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে

অজানা তথ্য: ফিল্ম প্রযোজনা করার আগে এরা দুজন রাখির ব্যবসা করতেন পরম্পরায় ঞ্চাশ বছর ধরে রাখির ব্যবসা করছেনসারা বিেশ্ব রাখি রফতানি করেন তারা

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

কেন তিনি এখানে: ণ্ডািষ্ট্র এক নম্ব নায়ক তার সঙ্গে আর জুটি বাধেন নাদুজনের সম্পর্ক সাবেক সোভিয়েত আমেরিকা ঠাণ্ড যুেদ্ধ চেয়েও শীতল এব নিস্পৃহ জিৎ এব যিশু সঙ্গেও ২০০৮-এ ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি তাকেনায়ক নেই, স্বপন সাহা বা হরনাথ চক্রবতর্রী মতো মেগা-পরিচালকদের থেকেও তিনি আর ডাক পান না তবু কী অনন্য এই গ্ল্যামারধৌতি!

আজও বিজ্ঞাপনী এেণ্ডার্সমেন্ট থেকে এই কনককন্যা অক্লেশে ডাক দেন নতুন প্রজেন্ম মেয়েদের, ‘‘একটু বদলাওআমার মতো সেজে নাও’’ আর শুধু তো বিজ্ঞাপন নয়! তাকে ছাড়া এখনও ভাবা যায় না চতুরঙ্গ’-এর দামিনী

মেগানায়ক আর মেগাপরিচালক ছাড়াও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আজও টালিগঞ্জ ণ্ডািষ্ট্রকে যে ভাবে স্পিন্দ করেন তার নিজস্ব অনুরণন’-, তাতেই প্রমাণ, আজও টলিউডের নায়িকা-সাম্রাজ্যের রাশ তার হাতেই

তুরুপের তাস: চতুরঙ্গঅথবা মন আমুর, শেষের কবিতামনের গহনে ডুব-দেওয়া, একটু অন্য রকম নায়িকা মানেই

ঋতুপর্ণা! তার চুম্বকেই তো শহুরে দর্শক ভিড় জমায় অন্য ধারার এই সব ছবিতেকয়েক বছর আগে শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদমার্কা ইমেজ থেকে যে ভাবে আেস্ত আেস্ত বেরিয়ে এসেছেন ঋতুপর্ণা, সেখানে এই মোহময়ী নাগরিক আভিজাত্যই তার তুরুপের তাসআর সেটাই সব নয় সব সৌন্দর্যে রহস্য থাকে না, কোনও কোনও নারীর মধ্যে থাকেঋতুপর্ণার হাসি আর ভ্রুভঙ্গিতে সেই অমোঘ রহস্য অস্বীকার করে কে?

টালিগেঞ্জ মত: প্রসেনজিতের সঙ্গে টক্কর নিয়েও নিজের মতো ব্যাটি করে যাচ্ছেনঅন্য কেউ হলে এমনটা কল্পনাই করা যেত না!

ফাকফোকর: টিন-এজ লাভ েস্টারির এই যুগে যে ভাবে বন্যার মতো নতুন নায়িকারা ধেয়ে আসছেন, তাতে আচমকা ঋতুপর্ণার অজ্ঞাতেই তার পায়ের নীচের মাটি সরে যেতে পারেফিরদৌসের সঙ্গে জুটি বাধার যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন, তাও সফল হয়নিজুটি না-থাকার ফাক বেয়েই হয়তো ঋতুপর্ণার কেরিয়ারের বাসরঘরে ঢুকে পড়তে পারে সাপ!

অজানা তথ্য: বারাক ওবামা থেকে সলমন রুশদির নতুন উপন্যাস সবই এখন গোগ্রাসে পড়ছেন তিনিএত তুরন্ত গতির বহুভোজী পাঠিকা ঋতুপর্ণা আগে ছিলেন নাএখন পড়ার ফাকে কলমও তুলে নিয়েছেন হাতে, লিখছেন চিত্রনাট্যঋতুপর্ণার চিত্রনাট্যে হয়তো অচিরেই বালা ছবিতে আসতে পারে নতুন কোনও চমক!

স্বপন সাহা

কেন তিনি এখানে: সময়ের সঙ্গে পাল্টাতে জানেন তিনিএক সময় পার্ক িষ্ট্রটের কোনও রেেস্তারায় যেতে ভয় পেতেন, এখন কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে কাজ করছেনআগে তিনি একই সময়ে একাধিক ছবি ধর তক্তা মার পেরেককরে শু করতেন, এখন শুটি ফ্লারে নামার আগে রীতিমতো অভিনয়ের ওয়ার্কশপ করাচ্ছেনআগে বাবা কেন চাকর’-এর মতো ছবি বানাতেন, এখন অত্যাধুুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সব ধরনের দর্শকের মন জয় করতে চাইছেন এক সময় তাকে মেলোড্রামার মাস্টারবলা হত, কিন্তু ২০০৮-এর শেষে এসে তিনি দৃিষ্টভঙ্গি বদলেছেন

তুরুপের তাস: বাণিজ্যিক সিনেমাও যে অ্যাসেম্বলি লাইনে ফেলা যায়, সেটা স্বপন সাহার আগে টালিগেঞ্জ কেউ বুঝতেও পারেননিকথা বলেন কমতিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না, তিনি একসঙ্গে কতগুলো ছবির কাজ সামলাচ্ছেনকোন ছবিতে কে কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন, কখন কার কল টাইম, কোন ছবিটা কোন দক্ষিণ ভারতীয় ডিভিডি থেকে তোলা হয়েছে এব সেখানে কী কী পাল্টানো হয়েছে, সব হিসেব তার মাথায়যেন একাই একটা সুপার কিম্পউটার


টালিগেঞ্জ মত: স্বপন সাহার ছবি মানেই কস্ট রিকভার হবেই

ফাকফোকর: মৌলিক চিন্তাভাবনার অভাবআগে বালাদেশ থেকে নকল করে ছবি বানাতেনএখন দক্ষিণ ভারতীয় ছবির নকল করেন

অজানা তথ্য: স্বপন সাহার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায়ও িদ্বধা করেন নাএতটাই সম্মানের চোখে তাকে দেখে টালিগঞ্জ

ঋতুপর্ণ ঘোষ

কেন তিনি এখানে: বললে হবে? একমাত্র তার ফোনেই কলকাতার স্টুডিওয় উড়ে আসেন অমিতাভ বচ্চনঅমিতাভ থেকে অভিষেক, শর্মিলা ঠাকুর থেকে সোহা আলি খান, অপর্ণা সেন থেকে কঙ্কণা সেনশর্মা, মুনমুন থেকে রাইমা-রিয়া সেন...দুই প্রন্মকে ডান হাতে বা হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে কী ভাবে রুপোলি পর্দায় ভাসিয়ে দেন ঋতুপর্ণ! এব এই নাক ঁসিটকানো কলকাতার স্টুডিও তার কৃপাতেই দেখতে পায় গ্ল্যমারোজ্জ্ব শ্বর্যা, প্রীতি, বিপাশা, মনীষাদের.....

তুরুপের তাস: ব্ল্যাক অ্যাণ্ড হোয়াইট অ্যাণ্ড গ্রে... নিউট্রাল কালারধমর্ী েপ্রক্ষাপটকে ক্যানভাসের মতো রেখে, তার ওপর চূড়ান্ত আবেগ... দুরন্ত িস্ক্রপ্ট... এব মুম্বইয়া গ্ল্যামার মিশিয়ে তিনি এমন সোনাসোনা ছবি বানান যে, হুরে বাঙালি নড়েচড়ে বালা ছবি দেখতে ঢোকে মৃদু হেসেমনের ব্যাকগ্রাউেণ্ড হাল্‌কা ভাবে বাজতে থাকে সত্যজিৎ, মৃণাল...

টালিগেঞ্জ মত: ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেতে হলে ঋতুপর্ণর ছবিই করতে হবে


ফাকফোকর: গত বেশ বছরে তেমন বাণিজ্যিক জনিপ্রয়তা পায়নি তার ছবিএ ভাবে চলতে থাকলে ঋতুপর্ণ-বিভায় কত দিন মজে থাকবেন প্রযোজকেরা? আরেকটা কথা, তার ছবিতে অভিনয় করলেও কণ্ঠস্ব অন্য শিল্পীর থাকবেএ আবদারে বিপাশা বসুর মতো আরও অনেকে গর্জে উঠবেন না তো অচিরেই?

অজানা তথ্য: ঘরোয়া কথার মাঝে বলার অভ্যাস, ‘বোকার মরণ

কোয়েল মিল্ল

কেন তিনি এখানে: ভাগ্য হোক আর যাই হোক কোয়েলের ছবির সাকসেস রেট খুব বেশিটালিগেঞ্জ সব চেয়ে নির্ভরশীল নায়িকা হয়ে উঠছেন সযত ভাবে, ধীরে ধীরে২০০৭-এ হিট ছিল নবাবনিন্দনী এই মুহূর্তে ভাল চলছে মন মানে না

এই তালিকায় তিনি এত ওপরে, তার অন্যতম কারণ প্রযোজক ংস্থ ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গে কোয়েলের সুমধুর সম্পর্ক ফলে বড় বাজেটের ছবির কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেনতবে এই সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মূলে রয়েছে একের পর এক তার অভিনয়ে হিট ছবিচিত্রনাট্য ভাল করে পড়ে বাছাই করা ছবিতে অভিনয় করেন, যেখানে তার অভিনয় দেখানোর সুযোগ আছেক্স অফিসের সাফল্যের কথা ভাবলে এক ডাকে প্রযোজক-পরিচালকদের কোয়েল মিল্লকের কথা মনে আসে

তুরুপের তাস: কেউ কঠোর সমালোচনা করলেও চট করে পাল্ট জবাব দিয়ে গায়ের ঝাল মেটানোর কথা ভাবতেই পারেন না

এক কথায় কূটনীতিক খুব মাপাহাসিমুখে কথা বলেনএতটাই মিষ্টভাষী যে, কািস্টং লিস্ট করতে বসলে প্রযোজক পরিচালকদের তার কথা মনে পড়বেইঅিপ্র প্রসঙ্গ বা কথা এড়িয়ে যানসহিষ্ণুতা খুব বেশি

টালিগেঞ্জ মত: অনেক সময় নায়িকাদের নানা রকম বাহানা থাকে, কোয়েলের তা একেবারেই নেইযে কোনও শুটি ইউনিটের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলার অভ্যেস শুটিয়ে আসেন একদম সময়মতো প্রতিটা শট বুঝে নেওয়া, এব নানা ভাবে একই শট দিয়ে সেরা পারফরম্যান্সটা দেওয়ার চেষ্ট করেন

ফাকফোকর: জিতের সঙ্গে জেম্প জুটির পর আজও আর কোনও জুটি হয়নিঅভিনয়েও আরও ঘষামাজা দরকার তা ছাড়া ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গে অতিরিক্ত যোগাযোগ থাকাটার সুবিধেটাই হয়তো তার সব চেয়ে বড় অসুবিধে হয়ে দাড়াতে পারেযেমন সম্প্রতি ভেঙ্কটেশ ফিল্মসেরমন মানে নাছবিটিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে জি মোশন পিকচার্সের প্রযোজনায়চিরসাথীছবিটির প্রচারে সে ভাবে যাননিজি টিভি তার প্রতি অসন্তুষ্ট কাল অন্য প্রযোজকেরাও এর ফলে স্বিস্তকা মুখোপাধ্যায়ের দিকে ঢলে পড়তে পারেন

অজানা তথ্য: ছবি রিলিজ করার দিন সব চেয়ে বেশি বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা মারেন, মিটি করেন ভুলেই থাকতে চান ছবি রিলিজের বুক দুরুদুরুটা

ঞ্জ দত্ত

কেন তিনি এখানে: দ্রলোকের িস্ক্রপ্ট রু প্রজেন্ম বিন্দাস ভাষায় কথা বলেএকমাত্র বাঙালি পরিচালক, যার ছবি দেখতে কনভেন্ট স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা হলে ঢোকে পাশ্চাত্য ঢঙে -লিশছবি, বব ডিলান থেকে পাগলা হাওয়া বাদল দিনে’, সবেতেই তিনি সমান সুরেলা

তুরুপের তাস: উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে দার্জিলিয়ের দুর্ধর্ষ মার্কেটি ঞ্জ দত্তের ছবি হলেই বাণিজ্যিক বালা ছবির গানের সিডির ভাল কাটতি

টালিগেঞ্জ মত: টিভি শিল্পীদের দিয়ে অভিনয়ের ওপর ভরসা রাখেন প্রযোজকের পকেট বুঝে ছবি করেনপ্যাকেজি ভাল, মাস অ্যাপিলও আছেঞ্জ দত্ত গভীর মেলোড্রামা করেন নাগভীর বোধের কথাও হাল্ক চালে বলে বেরিয়ে যান

ফাকফোকর: ঝাকে ঝাকে নতুন পরিচালক আসছেন টালিগেঞ্জ এই জোয়ারে তারুণ্যেরট্রম্পকার্ডনিয়ে পয়লা নম্বরে পৌছতে পারবেন তো?

অজানা তথ্য: ফ্লারে কোনও শট পছন্দ হলে, ঞ্জ দত্ত চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নাচোখ মুছতে মুছতে সেট থেকে বেরিয়ে, বাইরে গিয়ে একটা সিগারেট খেয়ে গম্ভীর মুখে ফিরে এসে আবার শুটি শুরু করে বলেন, ‘‘চলো লেটস গো’’

জি টেলিফিল্ম এব রাজীব চেট্টাপাধ্যায়

কেন তিনি এখানে: সুদর্শন কর্পোরেট প্রযোজক যিনি টালিগেঞ্জ এলেন, দেখলেন, জয় করলেনমহীন্দ্র বা রিলায়েেন্স মতো কোম্পানিকে পেছনে ফেলে মীরাক্কেল’, মিঠুনের ডান্স বালা ডান্স’, সারেগামাপার মতো একের পর এক জনিপ্র শো আছড়ে ফেললেন টিভিতেটিভি পেরিয়ে তিনি এখন বালা ছবিরও মিস্টার মানিব্যাগহাতে? দশটা ছবি

তুরুপের তাস: বোর্ডরু কালচারনিয়ে এলেন টালিগঞ্জ ণ্ডািষ্ট্রতে মনে করেন, ফিল্ম ইনিস্টটিউটের ছাত্রছাত্রীরাই বালা ণ্ডািষ্ট্র ভরসা

টালিগেঞ্জ মত: ম্যান অন আ মিশননতুন পরিচালক, নতুন নায়কদের সঙ্গে কাজ করছেনবালা ছবিকে একটা নতুন পরিচয় দেওয়ার চেষ্ট করছেন

ফাকফোকর: আশঙ্কা, এই মন্দার বাজারেও যে দ্রুতগতিতে সিদ্ধন্ত নিচ্ছেন, তার ছবি তৈরির উদ্যম হোচট না খায়কারণ অনেক ছবি চিন্তাভাবনার স্তরেই আটকে আছেআর বাণিজ্যিক ভাবে এখনও পর্যন্ত সিনেমায় তেমন সাফল্য নেইণ্ডািষ্ট্রতে জোর রটনা, সুযোগসন্ধানী ন্ধুত্ব চালে আটকে পড়ছেন রাজীব

অজানা তথ্য: হায়দরাবাদে আজহারউিদ্দনের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেনসময় পেলেই পড়েন ইমরান খানের আত্মজীবনী মিঠুনের সঙ্গে আড্ডায় বসে যান ফুটবল নিয়ে

এন কে সলিল

কেন তিনি এখানে: টলিউডে চিত্রনাট্যকার হিসেবে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পানভেঙ্কটেশ ফিল্মসের মতো বড় প্রযোজক ংস্থার সুনজরে থেকে ভাল কাজ করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন বারবার

অন্য প্রযোজকদের কাছেও হয়ে উঠছেন অপরিহার্য চিত্রনাট্যকার প্রবীণ ও নবীন পরিচালক-সহ মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ এব নতুন প্রজেন্ম নায়ক নায়িকারাও পছন্দ করেন সলিলকে

তার লেখা লাপমারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে’ ‘পাবলিকের মার, কেওড়াতলা পারলোকের মুখে মুখে ফিরেছে এই জন্যই চার পাশের মানুষ, দৈনিন্দ জীবনের নানা ঘটনা, খবরের কাগজের সাড়াজাগানো খবর বা নিতান্ত মামুলি খবরও হয়ে উঠতে পারে তার কাহিনি-চিত্রনাট্যের অঙ্গদর্শক সেই জন্যই তার কাহিনি-সলাপের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন

তুরুপের তাস: সমসাময়িক যে কোনও ঘটনাকে অতি সহজে সিনেমার গেল্প রূপান্তরিত করতে পারেনলাপ রচনায় কখনও পুনরাবৃত্তি ঘটে না


টালিগেঞ্জ মত: বালা ছবিতে চিত্রনাট্য ও সলাপ লেখার ক্ষেত্রে অঞ্জ চৌধুরীর সফল পেশাদার উত্তরসূরি তিনিকথার দাম রাখায় তার জুড়ি নেই শুধু চিত্রনাট্য লিখেই কাজ শেষ করেন না, ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনেপ্রাণে জড়িয়ে থাকেন

ফাকফোকর: আজকে িস্ক্রপ্ট লিখব, কালকে অ্যািক্টং করব, পরশু পরিচালনা করব, এত কিছু করলে সামলাতে পারবেন তো?

অজানা তথ্য: চিত্রনাট্য লেখেন ল্যাপটপেতাও আবার বালায়

তামিল-তেলুগু ডিভিডি

কেন তিনি এখানে: এই ফাইবারের চাকতিগুলিই কয়েক বছর ধরে বালা ছবির সেলিম-জাভেদকেন? রিফিউজিটোকা তেলুগুছত্রপতিথেকেগোলমালএল তামিল ছবি হনুমান জশনথেকেভালবাসা ভালবাসাটোকা তামিল বোম্মালেরুথেকে এমনকী েপ্রমের বাজারেও তামিল-তেলুগু মা কি জয়! কোটি ব্যবসারচিরদিনই তুমি যে আমারতামিল ছবি কাদিলথেকে টোকা, যা আবার তেলুগু ছবিপ্রমিেস্থ কপিমা গো, ‘তুলকালামটা কী করে যে হিট করল, কপি ছাড়াই!

তুরুপের তাস: কী মজা! কপিরাইট নিয়ে খুব বেশি কড়াকড়ি নেই দক্ষিণেফলে, ছবি নকল করাও সোজা বাঙালি দর্শক দক্ষিণের ছবির সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় এগুলো যে অনুকরণ, তারা ধরতেই পারেন না

টালিগেঞ্জ মত: গেল্প সঙ্গে সঙ্গে যেহেতু লোকেশনও টোকা হয় তাই দেখতে ভাল লাগেকখনও ভাইজাগে, কখনও মহীশূরে, কখনও কেরলের ব্যাকওয়াটারে, যেখানে সাউথ ইিণ্ডয়ান হিরোরা নেচে আসেন, সেখানে গিয়ে নাচেন আমাদের দেব-হিরণরাও তামিল-তেলুগু টেকনিশিয়ানরাও অ্যাকশনবলে চলে আসেন বালা ণ্ডািষ্ট্রতে হয়ে যায় বালা-তামিল ভাই-ভাই!

ফাকফোকর: সাহিত্যাশ্রয়ী গেল্প অভাবএকঘেয়ে হয়ে যেতে বাধ্যবাঙালিয়ানার এত ফাক বাঙালি বেশি দিন নেবে তো?

অজানা তথ্য: বালায় অনুবাদ করার জন্য অনুবাদকদের ছবি পিছু পারিশ্রমিক পাচ হাজার টাকা বাহ্‌!

স্ট্যাণ্ড বাই

স্বিস্তকা মুখোপাধ্যায়
টোল পড়া গালের মিিষ্ট নায়িকা স্বিস্তকা টলিউডের ফুরফুরে হাওয়া যেনবিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও ডাকসাইটেশাড়ি-চুড়িদার-ট্যাঙ্কটপে সমান স্বচ্ছন্দ অভিনয়ের বহুমুখিতা আর সৌন্দর্য তার তুরুপের তাস

তবে জিতের সঙ্গে জুটির সমীকরণের রসায়ন ঘিরে তিনি যে ভাবে এগোতে চেয়েছিলেন সেই কেমিিষ্ট্র মুখ থুবড়ে পড়েছে এ বছরসৌন্দর্য এব অভিনয়ের বাকি সমস্ত উপকরণ মজুত থাকলেও কেবল হিসেবের গরমিলে তালিকায় এলেন না তিনিনতুন বছরে মেগা প্রযোজকদের সঙ্গে সম্পর্কে ন্নতি হলে কে বলতে পারে নায়িকা দৌড়ে তিনিই এগিয়ে যাবেন

দেব
দেবের মধ্যে আছে সেম্মাহনের ক্স-ফ্যাক্ট কিম্পউটার ইিঞ্জনিয়ার, সুপুরু দেব, জিৎ-পরবতর্ী জমানায় প্রথম সারির নায়কের জায়গা নিতে পারেনফুটের দেব গ্রামশহরে সমান জনিপ্র টালিগেঞ্জ সব চেয়ে বড় প্রযোজক ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের জেতা ঘোড়া তিনিভেঙ্কটেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই না কাল হয়ে দাড়ায়অন্য প্রযোজকদের ফিরিয়ে নতুন নায়কদের সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি

স্টাইলি সহায়তা: অনিরুদ্ধ চাকলাদার, শুটি স্থল: রয়্যাল ক্যালকাটা গল্ফ ক্লাব