নায়িকা ইন্দ্রাণী হালদার। পরিচালক অতনু ঘোষ। দেখলেন সংযুক্তা বসু।
আবার ছবির ভেতর ছবি। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘খেলা’, গৌরব পাণ্ডের ‘শুকনো লঙ্কা’র পর—এ বার অতনু ঘোষের প্রথম কাহিনিচিত্র ‘অংশুমানের ছবি’।
ভিড়ে হারিয়ে যাবে না তো ‘অংশুমানের ছবি’? ‘‘বাকিদের কথা জানি না। আমার ছবির মজাটা হল িট্রটমেন্ট। িস্ক্রপ্টটাই আলাদা রকম। হারাবে না,’’ জবাব অতনুর।
এত কনফিডেন্স? হ্যা। হোক না প্রথম ছবি। ছোট পর্দায় হাত পাকানো অতনু এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, পুরো ছবির গল্প বলেও মুচকি হেসে বলতে পারেন, ‘‘লিখুন না। গল্প জানলেও দর্শক আসবে ছবিটা দেখতে।’’
সে ছবির শুটিং দেখতেই তো বারুইপুরে আসা। বিশাল জমিদার বাড়ির ছাদে ক্যামেরার মনিটরে চোখ রাখার ফাকে অতনু বলেন, ‘‘গল্প তো দুটো। একটা ছবির গল্প। অন্যটা ছবির মধ্যে ছবির গল্প। কিন্তু দুটো গেল্পর ট্র্যাক আলাদা হয়েও কোথাও মিলেমিশে যায়। এখানেই চিত্রনাট্য আর পাচটা ‘ফিল্ম উইদিন ফিল্ম’-এর চেয়ে আলাদা।’’
ছবির নায়িকা ইন্দ্রাণী হালদার। ইন্দ্রাণী ছাড়া আর কাউকেই নায়িকা হিসেবে ভাবেননি অতনু। কেন? ‘‘ছবির নায়িকা মধুরা এক জন জাতীয় পুরস্কার পাওয়া নায়িকা। মধুরার চরিত্রে যদি কাউকে নিতে হয়, তা হলে ইন্দ্রাণীর মতো এক জন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়া নায়িকাকে নেওয়া ভাল বলেই আমার মনে হয়েছিল,’’ যুক্তি পরিচালকের।
কিন্তু জাতীয় পুরস্কার তো টালিগেঞ্জর আরও অনেক নায়িকাই পেয়েছেন। তারা কেউ নন কেন? অতনুর উত্তর তৈরি, ‘আমার দশ-দশটা টেলিফিেল্ম অভিনয় করেছে ইন্দ্রাণী। এত দিন কাজের অভিজ্ঞতার তো একটা দাম আছে।’’
মনিটরে এ বার মধুরা। পেছনে হেয়ার েড্রসার বিন্দু।
বিন্দু: ‘‘আজ তো খুব কাছে শো বলছে। সাড়ে সাতটায় বেরোলেই হবে। তা হলে তোমার পুরনো ব্লাউজগুলো কেচে দিই?’’
পরিচালক
অতনু ঘোষ
ঘাড় ঘোরানো, চোখের ইশারা— শব্দহীন অভিনয়ে বাকিটা সারল মধুরা।
এ বার পরিচালক উচ্ছ্বসিত, ‘‘এত ভাল শটটা দিল ইন্দ্রাণী। দেখলেন তো কিছু বলতে হয় না ওকে।’’ দু’টেকেই শট ওকে। টেলিফিল্ম থেকে ফিচার। সহজে তো কেউ আসে না। অতনু এলেন কী ভাবে? ‘‘তেরো বছর কাজ করেছি ছোট পর্দায়। আমাদের টেলিফিল্মগুলো যখন ফেিস্টভ্যালে দেখানো হল, তখন থেকেই ছবি করার ইচ্ছেটা আরও বেড়ে যায়,’’ জবাব অতনুর।
শুটিংয়ের ফাকেই ইন্দ্রাণীর সঙ্গে কথাবার্তা। মেক-আপে নায়িকা। পাশে হেয়ারেড্রসার। ‘‘আলাপ করিয়ে দিই। সোমা চক্রবর্তী। ছবিতে ওর নাম বিন্দু। আমার হেয়ারেড্রসার। মধুরার অনেক কান্না-হাসি-েপ্রম-প্রত্যাখানের সাক্ষী। খুব ইম্পর্ট্যান্ট চরিত্র।’’
—আর আপনার চরিত্রটা?
—আমার চরিত্রটার অনেক স্তর আছে। অনেক স্তর আছে গল্পটারও। মধুরার অপূর্ণতা, আর ভাল কাজের খিদে, বোধ হয় সব শিল্পীরই থাকে। অতনুর চিত্রনাট্যে কাজ করার একটা আলাদা মজা আছে। একটা মেসেজ থাকত টেলিফিল্মগুলোতে। অথচ পুরোপুরি কমার্শিয়াল উপকরণে ঠাসা।’’
জমিদারবাড়ির নীচে বাধানো ঘাট। সামনে বিশাল দিঘিতে শ্যাওলা জমে যেন সবুজ মাঠ। সে দিকে তাকিয়ে ইন্দ্রাণী হঠাৎ নস্টালজিক— ‘‘ওই ঘাটেই তো ‘সাঝবাতির রূপকথা’য় আমার আর সৌমিত্রকাকুর কথোপকথনের একটা অসামান্য সিকোয়েন্স শুট হয়েছিল।’’ ইন্দ্রাণী–সৌমিত্রর অসমবয়সী জুুটি। সে ম্যাজিক ‘অংশুমানের ছবি’তেও থাকবে।
কিন্তু অংশুমান? তিনি কই? ‘‘তিনিই তো হোতা,’’ বলেন অতনু। অতনুর ছবিতে পরিচালকের নামটাই তো তাই।
নাম: অংশুমান রায়। বয়স: বছর তিরিশ। নিবাস: বিদেশ। কিন্তু তিনি বাংলা ছবি করতে চান। এবং সেই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে নেন মধুরাকে যিনি কিনা ছবি থেকে অবসর নিয়ে এখন কেবলই যাত্রা করেন। আর রয়েছেন প্রদ্যোৎবাবু (সৌমিত্র চেট্টাপাধ্যায়)। বাংলা ছবিকে উজ্জ্বল-বুিদ্ধদীপ্ত ছবি উপহার দিয়ে এখন অবসরে। টি সরকার েপ্রাডাকশেন্সর ব্যানারে এই ছবিতে অংশুমানের চরিত্রে অভিনয় করবেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। যিনি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ‘জানালা’ ছবিরও নায়ক। আর আছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, টোটা রায় চৌধুরী, অনন্যা চেট্টাপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ।
লাঞ্চ আওয়ারের গেপ্পা শেষ। আবার মনিটরে চোখ অতনুর। আর ইন্দ্রাণী? পালঙ্কে বসে। হাতে ওষুধের পাতা। একেবারে মধুরা। যাত্রার ম্যানেজার ঘরে ঢুকল। ম্যানেজার: ম্যাডাম আপনার কি মাথা ধরেছে?
মধুরা: এখনই ঠিক হয়ে যাবে।
ম্যানেজার: একটা কথা বলব? আজকের শো’টা আপনি করতে পারবেন তো? আমি তো সব শুনেছি।
এই পর্যন্তই শট। কী শুনেছে যাত্রা পার্টির অধিকারী?
‘‘পরের শটটা দেখলে বুঝতে পারতেন,’’ বলেন অতনু। ‘‘মধুরা এই দিঘির ঘাটের ধারে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে খেলতে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পাবে। আর এইখান থেকেই গল্পটার মধ্যে একটা িথ্রলারের ডাইমেনশন আসবে।’’
শীতের বেলা। প্যাক আপ করে ইন্দ্রাণী বাড়ির পথে। আর যেতে-যেতে ফিরে এল এক বছরের নিঃসঙ্গ মুম্বই বাসের এক ঝলক স্মৃতি ‘‘এই যে বাড়ি ফিরছি, আর সেখানে কেউ অপেক্ষা করছে, এটার আনন্দই আলাদা।’’ ইন্দ্রাণী বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
অতনু কিন্তু থেকে গেলেন জমিদার বাড়িতে। নাইটশুট আছে। আছে িট্রটমেন্ট। সেটা নিয়ে ভাবতে হবে যে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment