শতাব্দী রায়ের সঙ্গে ‘েফ্রণ্ড’লি সাক্ষাৎকারে সংযুক্তা বসু
পত্রিকা: গতকালই আপনার পরিচালনায় ছবি ‘েফ্রণ্ড’ রিলিজ করল। পরিচালনা করছেন, ছবি আকছেন, কবিতা লিখছেন, যাত্রায় যাচ্ছেন—- কখন যে কী কাজ করে ফেলতে পারেন ঠাহর করা মুশকিল। এত সময় পান কী করে?
শতাব্দী: ও হয়ে যায়। কোনও কাজই টানা করতে ভাল লাগে না। যখন কবিতা লিখলাম, ছবি আকলাম তো টানা তিন মাস চার মাস সেই ঘোরই চলল। আবার যখন অভিনয় করছি তখন তাতেই ডুবে গেলাম। পরিচালনা করতে করতে কবিতা লেখা যায় না।
পত্রিকা: এর পরের চমক কী? বইমেলায় আবার নতুন বই?
শতাব্দী: এগ্জ্যাক্টলি। এ বার কবিতা সংকলন বেরোচ্ছে। বইয়ের নাম ‘তুমি শুধু তুমি’।
পত্রিকা: এই ‘তুমি’টা কে?
শতাব্দী: আমার সৃিষ্ট, আমার কবিতা...
পত্রিকা: ব্যস এইটুকুই?
শতাব্দী: কবিতার তো কত রকম অর্থই হয়। তাতে কেউ অন্য কোনও মানে খুজে পেতেই পারেন।
পত্রিকা: এত কবিতা লেখেন কখন? যাত্রা করতে করতে?
শতাব্দী: একেবারেই তাই। পাচ-ছ’ ঘণ্টা জার্নি করে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় শো করতে যাই। তার মাঝখানে গাড়িতে অনেকটা ভাবার সময় পাই। নতুন নতুন চিন্তা মাথায় এসেছে কত বার যাত্রা করার ফাকেই। সকাল দশটা থেকে বিকেল পাচটা অবধি অবসর। ‘সম্পর্ক’ উপন্যাসটা তো যাত্রার ফাকে ফাকেই লিখে ফেললাম। এ বছরও বই বের করার কাজ সেই ভাবেই সারছি। বেশ কিছু নতুন কবিতাও থাকবে কবিতা সংকলনে।
পত্রিকা: ‘েফ্রণ্ড’-এর বিষয়বস্তুটা মাথায় এল কী করে? গেপ্পাটা কী?
শতাব্দী: ভাবছিলাম বাচ্চাদের নিয়ে বাচ্চাদের জন্য ছবি করব। এক কিম্পউটার সায়েিন্টস্ট গবেষণা করতে করতে একটা যন্ত্রমানব বানিয়ে ফেলেন। সেই নিয়েই গল্প। বিষয়বস্তুটা সায়েন্স ফিকশন, ‘স্পাইডারম্যান’ কিংবা ‘কোই মিল গয়া’র জাদু মিলিয়ে।
পত্রিকা: আগের ছবির বিষয়ের সঙ্গে তো কোনও মিলই নেই...
শতাব্দী: জীবনের প্রথমেই কাজ করেছি তপন সিংহের মতো পরিচালকের সঙ্গে। ওঁর মতো বিচিত্র বিষয় নিয়ে ছবি বাংলা কেন ভারতেও কেউ করেছেন কি না সেন্দহ। ওঁর বৈচিত্রবোধ আমাকে প্রভাবিত করেছে তো বটেই। তবে তপন সিংহের সঙ্গে নিজের কোনও তুলনা কিন্তু আমি করছি না। ভুল বুঝবেন না।
পত্রিকা: আপনার ছেলে শুনলাম এ ছবিতে অভিনয় করেছে?
শতাব্দী: ওকে তো মুখ্য চরিত্রটাই দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে মনে হল, না এতটা দায়িত্ব ও নিতে পারবে না। তখন ঋষভ এল। আমার ছেলে রয়েছে বাকি ছেলেমেয়েদের দলে।
পত্রিকা: প্রথম ছবি ‘আতঙ্ক’তে আপনার সঙ্গে ছিলেন সৌমিত্র চেট্টাপাধ্যায়। ‘েফ্রণ্ড’ ছবিতে ওঁকে ডিরেকশন দিতে কেমন লাগল?
শতাব্দী: যখন ছবিটার প্ল্যান করছিলাম, সেই সময় সৌমিত্রকাকুর সঙ্গে আরেকটা ছবির কাজ চলছিল। ওকে সেই সময়ই বলি, আমার ছবিতে বৈজ্ঞানিকের একটা রোল আছে, তোমাকে ছাড়া হবে না।’’ উনি খুশি মনে রাজি হয়ে গেলেন। সৌমিত্রকাকু আমার পরিচালনার ছবিতে অভিনয় করছেন এটা আমার জীবনের খুুব বড় পাওয়া।
পত্রিকা: ‘ঢাকি’ ছবিতে নায়ক তাপস পাল, আবার ‘েফ্রণ্ড’-এও উনি আছেন—-
শতাব্দী: অনেক দিন ধরে একসঙ্গে কাজ করার একটা সহজ অভ্যস্ততা আছে। আন্তরিক ভাবে কাজ করা যায়। কো-আর্টিস্ট হিসেবে খুব সহযোগিতা করে তাপসদা। স্টারদের মতো আচরণ করে না। কাজ করতে সুবিধে হয়।
পত্রিকা: ‘অভিনেত্রী’, ‘ঢাকি’, ‘েফ্রণ্ড’ -- সব ছবিতেই তো দেখছি আপনি নিজেই নায়িকা.....
শতাব্দী: ‘অভিনেত্রী’তে ভেবেছিলাম মুনমুন সেন আর রাইমাকে নেব। রাইমা ডেট দিতে পারল না। শেষ পর্যন্ত আমাকেই করতে হল মা মেয়ের ডবল রোল। ‘ঢাকি’তে প্রযোজক চাইলেন আমিই যেন ঢাকির বৌয়ের রোলটা করি। ‘েফ্রণ্ড’-এ রচনাকে নিতে চেয়েছিলাম। ও ডেট দিতে পারল না। তাই শেষমেশ আমাকেই করতে হল। কিন্তু আমার চরিত্রটা নায়িকার নয়। নায়ক-নায়িকা নতুন, ঋিদ্ধমা আর সায়ক।
পত্রিকা: অভিনয় আর পরিচালনার কাজ একসঙ্গে করতে অসুবিধে হয় না?
শতাব্দী: অসুবিধে তো হয়ই। এত রকম দৌড়োদৌড়ি, ছুটোছুটি, টেনশন— তার মধ্যে আবার মেক-আপ করতে বসা। তবে একটা সুবিধে আছে, ঠিক আমি যা চাইছি নায়িকার কাছে, সেটা আর কাউকে বলে বোঝাতে হয় না। নিজেই করে ফেলা যায়।
‘েফ্রণ্ড’-এর দৃশ্যে তাপস পালের সঙ্গে
পত্রিকা: আপনার সময়সাময়িক শিল্পী যেমন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা, ইন্দ্রাণী হালদার, সবাই তো এখন মুম্বইয়ে বসে কাজ করছেন। আপনি যান না কেন?
শতাব্দী: প্রথমত আমার ছেলেকে ছেড়ে মাসের পর মাস বাইরে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। িদ্বতীয়ত মুম্বইয়ের লাইফস্টাইল ভীষণ অিস্থর মনে হয়। ভাল লাগে না। আমি বাংলা ছবির জন্য কুড়ি পচিশ দিন হায়দরাবাদে গিয়েই থাকতে পারি না তো মুম্বই যাব!!!
পত্রিকা: আপনার প্রথম ছবি ‘অভিনেত্রী’ তো হিট করল না। তার ঠিক পরেই দু’-দুটো ছবি করে ফেলার সাহসটা পেলেন কী করে?
শতাব্দী: অত হিট-ফ্লপ জানি না। আমি তো একশোটা ছবি করতে পারি প্রযোজক পেলে।
পত্রিকা: ইদানীং পরপর বেশ ক’টি ছবি করলেন তাপসের সঙ্গে। আপনারা কি আবার জুটি হিসেবে ফিরে আসতে চাইছেন?
শতাব্দী: ঠিক জুটি হিসেবে ফিরে আসতে চাইছি কি না বলা শক্ত। তবে একটা কথা বলতে পারি, সাধারণত নায়কদের অনেক রকম টালবাহানা থাকে। তাপসদার সে রকম কিছু নেই। খুব সহজে পরিচালকের ভাবনার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তা ছাড়া আমাদের তো হিট ছবিও প্রচুর। সেই ‘গুরুদক্ষিণা’র সময় থেকে পরস্পরকে চিনি। নতুন করে বোঝানোর বা
রসায়ন তৈরি করার কিছু নেই। কাজ করে তাই কমফর্টবেল লাগে। আসল কথা তাপসের সঙ্গে চলা অনেক সহজ। প্রত্যেক ডিরেক্টর— েপ্রাডিউসর ওঁর সঙ্গে কাজ করে খুশি হন। পরিচালক হিসেবে আমিও খুশি।
পত্রিকা: এক বার প্রসেনজিতকে নিয়েও তো ছবি করলে পারেন....
শতাব্দী: উরি বাব্বা প্রসেনজিৎ!
তিনি তো বিরাট স্টার। ওর সঙ্গে কাজ করা খুব পরিশ্রমের ব্যাপার। অতটা বোধ হয় আমার সামর্থ্যে কুলোবে না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment