তপন িসংহের শেষ স্বপ্ন পূরণে রাজা |
| ছবির নাম ‘তিনমূতির্’। রোগশয্যায় সেই ছবি শেষ করতে বলে গেলেন |
| |
| বাংলা ছবির ইতিহাসে এমনটা আগে কখনও ঘটেছে বলে তো মনে হয় না! এক বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক কিনা মৃত্যুর আগে রোগশয্যায় শুেয় তাঁর লেখা শেষ চিত্রনাট্যটি নিেয় ছবি করার সম্মতি দিেয় গেলেন, তাঁরই েস্নহধন্য এক পরিচালককে। ঘটনাটা হল এই যে, গত বছর খুব অসুস্থতার মধ্যেই পরিচালক তপন সিংহ তাঁর শেষ ছবি ‘তিনমূর্তি’র চিত্রনাট্য থেকে সংলাপ থেকে চারখানা গান লিখে তাতে সুরারোপ করে থেমে গেলেন। শরীর আর চলছিল না যেন। কে শেষ করবে এই অসমাপ্ত কাজ? চিত্ররূপ পাবে না তাঁর শেষ স্বপ্নটা? তা ছাড়া প্রযোজক আর এ জালানের বেশ কিছু টাকা ছবির প্রাথমিক কাজে খরচ হেয় যাওয়ায় বড় মনোকেষ্ট ছিলেন শেষ দিকে তপনবাবু। শেষকালে অশীতিপর এই পরিচালককে স্বপ্নপূরণের প্রস্তাব দিেয়ই ফেললেন পরিচালক রাজা সেন। তপন সিংহ ব্যাপারটা নিেয় দীর্ঘদিনের বন্ধু মনোজ মিত্রের সঙ্গে আলোচনা করে শেষমেশ সত্যি সত্যিই লিখিত সম্মতিপত্রে সই করে, রাজা সেনকে দিেয় গেলেন ছবি শেষ করার দািয়ত্ব। প্রশ্ন হল, কী করে আর কাউকে নয়, রাজা সেনকেই যোগ্য মনে করলেন তপনবাবু? আসল কথা ‘হুইল চেয়ার’ ছবি করার সময় তপন সিংহকে নিেয় একটা তথ্যচিত্র করছিলেন রাজা সেন। সেই সময় তিন বৃদ্ধকে নিেয় এই গল্পটা উনি বলেছিলেন। যে দিন গল্পটা বলেন সে দিন েফ্লারে ছিলেন সৌমিত্র চেট্টাপাধ্যায় এবং অতিথি হিসেবে অনিল চেট্টাপাধ্যায়। প্রথম দিন থেকেই গল্পটা শুনে উৎসাহী হওয়াই ছিল পরবর্তী প্রজেন্মর এই পরিচালকের সব চেেয় বড় যোগ্যতা। তবে তপন সিংহের কাছে তাঁর যোগ্যতা বলতে এইটুকুই নয় কিন্তু। তিনি বরাবরই তপন সিংহের মতো নানা ধরনের গল্প নিেয় কাজ করার মধ্যে বৈচিত্র্য খুঁজেছেন। কখনও ‘দামু’র মতো ছোটদের গল্প, তো কখনও বা ‘চক্রব্যূৃহ’র মতো যুবসমাজের কাহিনি, তো কখনও বা ‘দেবীপক্ষ’-‘আত্মীয়স্বজন’-এর মতো পারিবারিক ছবি। তপন সিংহকে নিেয় তাঁর করা তথ্যচিত্রটির ক্লিপিংস তপন সিংহের প্রয়াণের পর ফিল্ম ডিভিশনের খবরের সঙ্গে এবং দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার অনুষ্ঠান ২০০৮-এও দেখানো হেয়ছে। রাজা যে মনে মনে তপন সিংহের ভাবশিষ্য এটাও তো তপনবাবু জানতেনই। জানতেন না এটাই যে, তাঁর শুরু করে যাওয়া কাজ একদিন শেষ করার দািয়ত্ব তিনি নিজে হাতে দিেয় যাবেন িপ্রয় রাজাকেই। এই মুহূর্তে ‘তিনমূর্তি’ ছবির চিত্রনাট্য পরিমার্র্জনের কাজে খুব ব্যস্ত রাজা সেন ও মনোজ মিত্র দু’জনেই। মনোজ মিত্র তো গেল্পর তিন বৃেদ্ধর এক জনও বটেন। আর এক বৃদ্ধ হলেন সৌমিত্র চেট্টাপাধ্যায়। সৌমিত্র বললেন, “ছবিটা তপনদা করতে পারলেই ভাল হত। তা চিত্রনাট্যটা পেড় থাকত শুধু শুধু। তার চেেয় বরং এই ভাল হল। রাজা সেন কাজটা করছেন। আর এটা তো আমাদের িট্রবিউট টু তপন সিন্হা! তাই না?’’ |
Monday, February 16, 2009
তপন িসংহের শেষ স্বপ্ন পূরণে রাজা
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment