কী হয়েছিল? কেন? শীতের বাজারে
চাপান-উতোরের গরম তরজা লিখছেন সুদীপ ঘোষ
চিরদিনই... তুমি যে আমার’-এর হিট জুটি, রাহুল-িপ্রয়ঙ্কা মারও খেলেন একই সঙ্গে। অভিযোগের আঙুল টালিগেঞ্জর পরিচিত ইেম্প্রসারিও অতনু সরকারের দিকে। সেই কাহিনি:
রাহুলের বক্তব্য
আমাকে চড় মেরে অতনু সরকার আর্টিস্টদের সামনে যে উদাহরণ খাড়া করতে চেয়েছেন, আইনের পথে তার শেষ দেখে আমি ছাড়ব। একটা উদাহরণ থাকবে যে এক জন ‘েপ্রাগ্রাম অ্যারেঞ্জার’-এর বিরুেদ্ধ এক জন আর্টিস্ট কত দূর গিয়েছিল।
৫ জানুয়ারি এগরায় শো ছিল আমাদের। পরদিন ভোরে, ফেরার পথে কোলাঘাটে খাওয়া-দাওয়ার জন্য আমরা থামি। সেই সময়ে অতনু সরকার লোকজন নিয়ে আমাকে আক্রমণ করেন। প্রথমে খারাপ গালাগালি। আমি তখন বলি, অতনুদা, আমি তো এক জন হিরো, এ ভাবে ওপেন জায়গায় আমায় গালাগালি দেবেন না। শুনেই আমাকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন উনি। িপ্রয়ঙ্কা ওঁদের আটকাতে গেলে, ওর হাত ধরে একটানে সরিয়ে দেন। আমাদের সিকিউরিটি গার্ডের হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে আমার দিকে তাকও করেন অতনুদা। তখন আমরা কোনও রকমে গাড়িতে উঠে কোলাঘাট থানায় গিয়ে ওঁর বিরুেদ্ধ এফআইআর করি।
২০০৮-০৯ সিজনে শো করার জন্য আমার সঙ্গে প্রথম কন্ট্র্যাক্ট করেন পিন্টু মণ্ডল। একটা সময় পিন্টুর সঙ্গে আমার একটু মনোমালিন্য হয়। তখন অতনু সরকার আমার সঙ্গে কন্ট্র্যাক্ট করার প্রস্তাব দেন। আমি কিন্তু ওঁকে আমার আগের কন্ট্র্যােক্টর কথা জানিয়েছিলাম। উনি বলেন ব্যাপারটা উনি বুঝে নেবেন।
আমিও জানতাম অতনুদা খুব ভাল মানুষ। ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সব শিল্পী ওঁর সঙ্গেই শো করেন। যেহেতু আমি ভেঙ্কটেশের ছবি (চিরদিনই... তুমি যে আমার) করেই বিখ্যাত হয়েছি, আমি ওঁকে বিশ্বাস করেছিলাম। পরে জানতে পারি ভেঙ্কটেশরা এর বিন্দুবিসর্গও জানতেন না। এ দিকে পিন্টু মণ্ডল বিষয়টা নিয়ে আদালতে যান এবং অতনু সরকারের ব্যানারে আমাদের শো করার বিরুেদ্ধ েস্ট অর্ডার পান।
অতনুদা যেহেতু আমাদের নাম করে তত দিনে অনেক শো ধরে নিয়েছিলেন, তাই ওঁরা একটা রফায় আসেন। যার ফলে অনেক সময়ে অতনুদার ধরা শোয়ের শেষে পিন্টুু মণ্ডলের ব্যানারে আমরা শো করেছি। ৫ জানুয়ারির শোটাও তেমনই ছিল। এগরায় মানুষ যদি খেপেই থাকত, তা হলে আমরা আস্ত ফিরতে পারতাম?
আমাকে যে খিিস্তখামারি-মারধর করা হল, তার কারণটা কিন্তু এগরার অনুষ্ঠান নয়। বেথুয়াডহরির ব্যাপার। বেথুয়াডহরির শোটা অতনুদা করিয়েছিল েস্ট অর্ডার সেত্ত্বও। তার জন্য নাকি ওঁকে নানা মহলে প্রচুর টাকা ঘুষ খাওয়াতে হয়। উনি তখন আমায় বলেন, কয়েকটা শোয়ের টাকা কম নিতে। আমি রাজি হইনি। ওঁর কৃতকর্মের ফল আমি ভুগব কেন? সেই ঝালটাই উনি সে দিন মেটাতে চেয়েছিলেন।
ফিরে এসে আমি ভেঙ্কটেশের মণিদার সঙ্গে কথা বলি। ওঁকে তত ক্ষণে অতনুদা ভুলভাল বুঝিয়েছেন। টালিগেঞ্জ প্রচার করেছেন যে, আমি নাকি নেশা করে েস্টজে উঠেছিলাম। আমি নাটকের ছেলে। এর থেকে হাস্যকর অভিযোগ জীবনে শুনিনি। তখন কথা বলে মনে হয়েছিল মণিদা আমার ওপর একটু বিরক্তই হয়ে আছেন। পরে বোধহয় আসল কারণটা মণিদা জেনেছেন। না হলে ঘটনার পর যেখানে প্রথম দিকে আমার কাছে নানা রকম েথ্রট কল আসছিল, সেখানে এখন শুনতে পাচ্ছি অতনুদা নাকি ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। আমি কিন্তু এর শেষ দেখে ছাড়ব।
অতনু সরকারের বক্তব্য
রাহুল আর িপ্রয়ঙ্কা আমার ছেলে-মেয়ের মতো। তাদের দিকে থুথু ছেটালে তো আমার দিকেই ফিরে আসবে। ঘটনার পর তাই আমি বেশি হইচই করিনি।
আসলে রাহুলের কিছু অসৎ সঙ্গ আছে। তারা ইণ্ডািষ্ট্রর বাইরের ছেলে। খারাপ সঙ্গ, নেশাভাঙ না করতে ওকে অনেক বুঝিয়েও লাভ হয়নি। ৫ জানুয়ারির অনুষ্ঠানেও রাহুল নেশা করে েস্টজে উঠেছিল। আর দেরি করে অনুষ্ঠানে পৌছনো তো ওর স্বভাব। বেথুয়াডহরিতে দেরি করেছিল বলে দর্শক খেপে গিয়েছিল। নৈহাটির একটা শোয়ে িপ্রয়ঙ্কা পৌছে গিয়েছিল, রাহুলের দেখা নেই। সে দিন এগরার শোয়েও একই ব্যাপার হয়েছিল। ৫ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে ভোট ছিল। এমনিতেই পুলিশ েপ্রাটেকশন দিতে প্রচুর অসুবিধা। তার মধ্যে রাহুল-িপ্রয়ঙ্কা দেরি করছে। যেখানে এগারোটায় অনুষ্ঠান শেষ হবার কথা, সে জায়গায় ওরা েস্টজেই উঠল রাত একটা বাজতে দশ-এ। রাহুলকে এ বিষয়ে কিছু বললেই ও বলে, আমি রাহুল। আমি যখন আসব, তখনই শো টাইম।
তত ক্ষণ দর্শকদের সামলাল কে? দেব-পাওলির শো ছিল। পনেরো হাজার দর্শক সামাল দিতে নিজেদের অনুষ্ঠানের পরও দেব-পাওলিকে দু’বার করে েস্টজে উঠতে হয়েছিল। রাহুল-িপ্রয়ঙ্কা পৌছনোর পর অর্গানাইজাররা বলেছিল, দাদা, আমাদের হাতে ছেড়ে দিন, আমরা দেখে নিচ্ছি। ওকে তো কেটে টুকরো-টুকরো করে দিত।
তখনই ঠিক করি একটা প্রতীকী প্রতিবাদ করব। সে কারণেই ধাবায় খেতে বসে ট্রুপের সকলের সামনে ওকে বোঝাবার চেষ্টা করি। এত অশািন্ত সেত্ত্বও রাহুলের মধ্যে একফোটা লজ্জা ছিল না। ও তখনও মেজাজ নিয়ে কথা বলছে। সেই নিয়ে তর্কাতর্কি, ধাক্কাধাক্কি। ও-ও মেরেছে, আমিও মেরেছি। ও যে এফআইআর করেছে, তার কোনও মূল্য আছে? ওর কেস নিয়ে আমি আদালতে গেলে ও ফেঁসে যাবে।
কোনও দিন শুনেছেন কোনও শিল্পী একই বছরে তিন জনের সঙ্গে এক্সক্লুসিভ কন্ট্র্যাক্ট করেছে। রাহুল করেছে আমার সঙ্গে। আবার পিন্টু মণ্ডল আর অমল বণিকের সঙ্গেও করেছে। তিন জনের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে। তা-ও এই নিয়ে আমি আদালতে যাইনি। বাচ্চা ছেলে, ভুল করেছে। তিন জন অর্গানাইজার মিলেমিশে কাজ করছি, যাতে ও-ও টাকাটা পায়, আইনটাও বাচে। প্রসেনজিৎ, রচনা বেন্দ্যাপাধ্যায়, দেবশ্রী রায় থেকে দেব, কোয়েল— এত দিন এত স্টার নিয়ে কাজ করেছি, কই কেউ তো অভিযোগ করেনি?
অতিরিক্ত তথ্য: দেবাঞ্জনা ভট্টাচার্য
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment