Monday, February 16, 2009

প্যাশনের আরেক নাম মাধবীলত

প্যাশনের আরেক নাম মাধবীলত

কে বলতে পারেন এমন কথা? স্ব মাধবীলতা।
‘কালবেলা’র জাগানো নাি পাওলি। তঁার খোমখি নিবেদিতা দে

ত্রিকা: রেখার পরে পাওলি...?
পাওলি: মানে?

পত্রিকা: মানে, গৌতম ঘোষের ঠিক আগের ছবি ‘যাত্রা’র নািকা ছিলেন রেখা। তার পরেই হল ‘কালবেলা’। যার নািকা আপনি ...ভাবতে পারছেন?
পাওলি: (গালে াত দিে) জাস্ট পারছি না! সত্যিই ভাবিনি। ভাগ্যিস! (হেসে)

পত্রিকা: কেন? কী ত ভাবলে?
পাওলি: মাথাটা খারাপ যেত! আমি হলাম গিে এক জন টিভি আির্স্ট। মেগা, টেলিফিল্ম নিে থাকি... খেটে খাওা... সেখানে ‘রেখা’ দিে দেখানো? কোনও মানে হ! আগে ভাবলে হাত-পা পেটের মধ্যে ঢুকে যেত।

পত্রিকা: চ্ছা, ‘কালবেলা’র মাধবীলতা-অনিমেষ চরিত্রে আপনাদের ছাা আর কাউকে ভাবতে পারেন?
পাওলি: বে কেক জনের নাম বলব?

পত্রিকা: বলন।
পাওলি: ‘বন্ত বিলাপ’-এর অপর্ণা-সৌমিত্র। বা ‘মধুমতী’র দিলীপকুমারের সঙ্গে ‘অ্যান্টনি-ফিরিঙ্গি’র তনুজা। বা, তব্বু-কে কে মেনন। কঙ্কণা-ইরফান। সেই সমকার িস্মতা পাটিল-রাজ বব্বর।

পত্রিকা: কেন? ব্যাচী-দেবশ্রী?
পাওলি: না। বেণদা ভীষণ লম্বা। আইডিাল ফর ফেলুদা। আর এই চরিত্রে খুব বেশি গ্ল্যামারাস হলে মুশকিল। মাটির কাছের হতে হবে। সে দিক দিে রেখা-অমিতাভও হবে না। অত বেশি গ্ল্যামার, স্টারডম...

পত্রিকা: ‘কালবেলা’র েই মাটির কাছাকাছি চরিত্রই কিন্তু রাতারাতি তারকা েস্টটাসটা এনে দিেছে আপনাকে।
পাওলি: তা দিেছে। আশেপাশে অনেক কিছুই বদলে গেছে।

পত্রিকা: বদলটা কী রকম শুনি?
পাওলি: প্রতিবেশীদের চাউনি পােল্ট গেছে। যেন একটু বেশি কৌতূহল... বেশি সম্ভ্রম। আমি তো ২০০৫ থেকে অভিন করছি। প্রসাও পেেছি। কিন্তু কই, এত দিন এমন হনি তো। এই যে ইন্টারভিউ... বা, বিভিন্ন জাগা নিমন্ত্রণ... কোথাও বুক রিলিজ, কোথাও সমাজসেবামূলক কাজ... ফিতে কাটা... আগে তো ডাকেনি। এগুলো নিশ্চই ‘কালবেলা’র জন্য হল।

পত্রিকা: চ্ছা, ‘কালবেলা’র জন্য আপনাকে কি চেতন ভাবেই অপণার্নের ম্যানারিজম রপ্ত করানো হেছিল? ওই যে ঠোঁট উেল্ট, চোখের তারা উপরে তুলে টিপিক্যাল অপর্ণা সেন হাবভাব! সঙ্গে হোরস্টাইল, চোখের মেক-আপ...
পাওলি: (ভীষণ ে) না, না। চেতন ভাবে নি। গৌতমদা (গৌতম ঘোষ) যেমন ভাবে বলেছেন, সেই ভাবে কাজটা করেছি। তবে অনেকেই বলেন, কেকটা অ্যাঙ্গেলে আমার সঙ্গে রিনাদির খুব মিল।

পত্রিকা: ‘মাধবীলতা’ িবে আপনাকে ভারী সুন্দর মানিেছে কিন্তু...
পাওলি: থ্যাঙ্কস। তবে, কেন মানিেছে জানেন? আমি আসলে একটু সেকেলে ধরনের। কনজার্ভেটিভ। গভীরতা বিশ্বাসী। এখনকার মেে হলেও মাধবীলতা-অনিমেষের গভীরতা... ওই যে নীরবে মনের মধ্যে ভালবাসা বাঁচিে রাখা... বলতে চাইছি, নাইট ক্লাব কালচারের ছটফটানির চেে, নীরব ভাষাতেই আমি বিশ্বাসী। আর এমনিতেও আমি বৌবাজারের মেে। উত্তর কলকাতার সংস্কৃতির মধ্যে ব হেছি।

পত্রিকা: আপনি লেক গাডের্ন্স এলেন কবে?
পাওলি: ’বছর ল। আমার কাজের জন্যই আা।

পত্রিকা: আপনার বাবা-মা কি অভিনের সঙ্গে যুক্ত কোনও ভাবে?
পাওলি: না, না। বাবার কাঠ পালিের ব্যবা। মা াউাইফ । তবে মাের চিরকালই নাচ-গান-অভিনের ঝোঁক। গানও শেখাত।

পত্রিকা: শুনা?
পাওলি: বৌবাজার লোরেটো, বিদ্যাাগর কলেজ থেকে কেমিিষ্ট্র অনার্স... তার পর সােন্স কলেজ। গ্র্যাজুেশনে ফাস্টর্ ক্লাস ছিল।

পত্রিকা: কেমিিষ্ট্রর এত ভাল স্টুডেেন্টর অভিনে আসার মিিষ্ট্রটা কী তা হলে?
পাওলি: টোই তো রন। (হসে) আসলে, তেমন নতুন কোনও গল্প নেই। সবার যেমন হ, সে রকমই। এক বার একটা টুথপেেস্টর বিজ্ঞাপন দেখে...

পত্রিকা: ...টিভিতে চান্স। তাই তো?
পাওলি: ্যাঁ। িরিালে। ‘জীবন নিে খেলা’, ‘তার পর চাঁদ উঠল’, ‘সোনার হরিণ’, ‘তিথির অতিথি’, ‘কাছের মানুষ’। এর পর পরই ছবির অফার আসে। প্রথম ছবি অবশ্য রিলিজ করেনি। ‘তিন ইারি কথা’। তার পর ‘আই লভ ইউ’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘হচ্ছেটা কী’।

পত্রিকা: শুনলাম ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতেও কাজ করেছেন?
পাওলি: ্যাঁ। ‘ব চরিত্র কাল্পনিক’-এ করলাম। খুব ছোট চরিত্র। শুধু ঋতুদা বলেই করলাম।

পত্রিকা: চ্ছা, এ বার ব্যিক্তগত প্রশ্ন। আপনার সঙ্গে প্রাত শিলাদিত্য পত্রনবিশের ঘনিষ্ঠতা ছিল।
পাওলি: (মাথা নিচ) এ ব কথা কি বলতেই বে?

পত্রিকা: লে কিছ ক্ষণ আগেই আপনি মাধবীলতা চরিত্রে িস্মতা পাটিলকে ভাবলেন, অনিমেষের চরিত্রে কে কে মেনন, রাজ বব্বর, ইরফান পর্যন্ত ভাবলেন। কিন্তু শিলাদিত্যর কথা মনে এল না অনিমেষ হিসেবে? উনিও তো খুব আবেগপ্রবণ ছিলেন শুনেছি?
পাওলি: ঠিকই বলেছেন। এত আবেগপ্রবণ... ঠিকই বলেছেন। অনিমেষ আর ওর প্যাশনেও তো ভীষণ মিল। দু’জনেই পরিিস্থতির বিরুদ্ধছিল।

পত্রিকা: ছিল?
পাওলি: ্যাঁ। জীবনটাকে গুছিে উঠতে পারছিল না প্যাট (শিলাদিত্য)। বারবার হোঁচট খেেছে। কখনও পরিবারে, কখনও কাজের জীবনে। যে কারণে ও ওর অভিজ্ঞতা থেকে আমাকে গাইড করত। মনে আছে, কেকটা কাজ খুব লোভনী হলেও আমাকে নিতে বারণ করেছিল। পরে দেখেছিলাম, মাঝ পথে কাজগুলো সত্যিই বন্ধ হে গেল। খুব প্যাশনেট ছিল। খুব সুপুরুষ। আমার হাত ধরে বলত, অল মাই লাক পাওলি। যেন ওর লাকটা আমাকে দিচ্ছে। নার্সিহোমে শুও বলত। আজ মনে হ, ওর উইশটাই আমাকে ‘কালবেলা’র সাফল্য এনে দিল।

পত্রিকা: আপনারা তো বিেও করেছিলেন শুনেছিলাম?
পাওলি: এই বিষটা থাক। ভাল লাগছে না। নাির্সহোমে শু আমার হাত ধরে বলেছিল, ‘‘আই অ্যাম ডাই পাওলি,’’...িপ্লজ ওর প্রসঙ্গটা বাদ দিন। কী জানেন, জীবনে তো প্যাশনই সব। তাই না?

পত্রিকা: মানে, প্যানের আরেক নাম মাধবীলতা...
পাওলি: (একট) তাই। প্যানের আরেক নাম মাধবীলতা।

No comments: