জয় হো গরিবি
সকলের দেখা উচিত বলছেন গৌতম ঘোষ
স্লামডগ মিলিওনেয়ার
দেব, অনিল, িফ্রডা, ইরফান
ভারতে মুক্তির এক দিন আগে ড্যানি বয়েল পরিচালিত ‘স্লামডগ মিলিওনেয়ার’ একাধিক অস্কার দৌড়ে মনোনীত হয়। এ হেন চলচ্চিত্রের সমালোচনা খোলা মনে লেখা একটু বিপজ্জনক। মুম্বইয়ের বিস্তর ভয়াবহ পরিবেশে বেড়ে ওঠা জামাল মালিক অর্থ জেতার এক জনিপ্রয় গেম শোয়ের শীর্ষস্থানে উত্তীর্ণ হয়। মিডিয়া ঘোষণা করে যে, বিস্তর চাওয়ালা জামাল কোটিপতি হতে চলেছে। এই পট থেকেই চিত্রনাট্যের বিকাশ।
’৯০-এর দশক থেকে উদারীকরণ ও খোলা বাজারের ঢেউ আছড়ে পড়ে আমাদের মতো আর্থ-সামাজিক ভাবে জটিল এক দেশের সামাজিক জীবনে। নতুন সহস্রােব্দ এসে ভোগবাদী অর্থনীতির সদর্প ঘোষণা পরিলক্ষিত হয় সমাজের সব স্তরে। অর্থই হল জীবনের মূল চালিকাশক্তি। মানুষকে হঠাৎ বড়লোক করে তোলার জন্য নানা ধরনের ‘স্বপ্ন বিপণি’ ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে। সে সবেরই একটি বিপণি—টিভি গেম শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’। বিদেশি গেম শো ‘হু ওয়ান্টস টু বি আ মিলিওনেয়ার’-এর নকলে তৈরি এই শো সমগ্র দেশজুড়ে তোলপাড় আনে। রামায়ণ মহাভারতের মতো ওই শো দেশের নানা শ্রেণির জনতাকে টিভির পর্দার সঙ্গে আটকে রাখে। ওই েপ্রক্ষিতে লেখা ইংরেজি উপন্যাস ‘Q and A’, লেখক বিকাশ স্বরূপ। উপন্যাসটা পড়েই আমার মনে হয়েছিল, লেখাটির মধ্যে চলচ্চিত্র তৈরির রসদ আছে। তার পর জানা যায়, ওই উপন্যাস অবলম্বনে ড্যানি বয়েল চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। েপ্রক্ষাপট—ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বই। মূল উপন্যাসের কাঠামো অনুসরণ করেই চিত্রনাট্য লিখেছেন সাইমন ব্যুফোর। চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে কিছু চরিত্র ও ঘটনাবলির রদবদল ঘটেছে। চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সোজা ন্যারেটিভে না গিয়ে সিনেমার স্থান, কাল (time and space)-কে আগুপিছু করে স্লামডগ বা আণ্ডারডগ জামাল মালিকের গল্প পর্দায় বিবৃত করেছেন।
এই ছবিকে কেন্দ্র করে বিশাল একটা তর্ক উঠেছে, ছবিটি দেখব কী দেখব না? এরই পিঠোপিঠি একটা নৈতিক প্রশ্ন, দারিদ্র দেখিয়ে ব্যবসা করাটা মহা অন্যায় কি না? আমার মনে হয়েছে বিতর্কটা অহেতুক। এই ছবিটা অবশ্যই প্রত্যেকের দেখা উচিত। মুম্বইয়ের বিস্ত, তার ‘স্লামস’— এগুলো তো তার বাস্তব অবস্থান। আর ‘স্লামডগ’ কথাটা তো খারাপ কিছু নয়। আমেরিকান স্ল্যাং। বিঞ্চত-শোষিতদের দল। অপমানজনক কোনও অভিব্যক্তি নয়। আর দারিদ্র দেখানোটা অনৈতিক কি না, এ প্রশ্নটা আমার কাছে খুব বোকাবোকা। সেই কবে এক বার কথাটা তুলেছিলেন। আরে যে দেশে শতকরা সত্তর শতাংশ গরিব, সেখানে সত্যিটা তুলে ধরাই তো শিল্পীর দায়িত্ব।
অস্কার দৌড়ে স্লামডগের অবশ্যই থাকা উচিত। প্রাথমিক রাউেণ্ড ‘তারে জমিন পর’-এর বিদায় নেওয়ায় যে সংশয়ের মেঘ জমেছে, আমার মনে হয় স্লামডগের তাতে ঢাকা পড়া উচিত নয়। আমিরের ছবির বিষয় নিয়ে আগে ছবি হয়ে গিয়েছে। ‘তারে জমিন’ অবশ্যই নকল নয়। কিন্তু থিমটা একেবারে নতুন ছিল না। স্লামডগে সে সমস্যাটা নেই। একেবারে নতুন সহস্রােব্দর ভারতের ছবি। তার ‘রিয়্যালিটি শো’, তার দারিদ্র ছাপিয়ে উঠে আসার উজ্জ্বল মুখ, এই সব।
ছবির শুরুতেই দেখা যায়, গেম শো উপস্থাপক েপ্রম কুমার (অনিল কপূর)-এর প্রেশ্নর সঠিক জবাব দিয়ে চলেছে আপাতদৃিষ্টতে অশিক্ষিত ছেলে জামাল। শঠতার অজুহাতে শীর্ষস্থানে পৌছনোর প্রাক্কালে পুলিশ হেফাজতে জামাল। সত্য উদ্ঘাটনের জন্য অত্যাচার ও জেরা চালাচ্ছে ইন্সপেক্টর (ইরফান খান)। এই দুই স্তরের সঙ্গে যুক্ত হয় তৃতীয় স্তর। টুকরো টুকরো দৃশ্যে জামাল ও তার ভাই সেলিমের শৈশব থেকে যৌবনে পৌছনোর ঘটনাবলি।
উপস্থাপক েপ্রম কুমারের প্রেশ্নর উত্তরগুলো কাকতালীয় ভাবে জামালের জীবনের ঘটনাবলি থেকে লব্ধ জ্ঞানের সঙ্গে মিলে যায়। অমিতাভ বচ্চন, আলেকজাণ্ডার ডুমা বা বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন। নামগুলো কোনও না কোনও ভাবে জামালের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই অংশগুলিতে ম্যাজিক রিয়্যালিজম-এর ছেঁায়া লক্ষণীয়। শৈশব পর্যায়ের টুকরো টুকরো দৃশ্যে অসাধারণ কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছেন পরিচালক। মুম্বইয়ের কুখ্যাত বিস্তধারার এমন চিত্রায়ণ বলিউডের কোনও চলচ্চিত্রে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। একমাত্র ব্যতিক্রম হয়তো ’৮০-র দশকের গোড়ায় নির্মিত রবীন্দ্র ধর্মরাজের ‘চক্র’। ছবিটিতে বিস্তজীবনের ছবি ধরা পড়েছিল। সেই নির্মাণে প্রয়াত শিল্পনির্দেশক বংশী চন্দ্রগুেপ্তর অনেকটাই অবদান ছিল।
হঠাৎ রব ওঠে, ধারাভি বিস্ততে হেলিকপ্টারে চড়ে অমিতাভ বচ্চন এসে নামছেন। তখন অস্বাস্থ্যকর খাটা পায়খানাতে লাইন পড়েছে। জামাল ও সেলিম সেই লাইনে শামিল। এর পর বচসা। জামালের পায়খানায় আটকে পড়া। তত ক্ষণে অমিতাভ নেমে এসেছেন মর্তে। প্রবল উত্তেজনা। নিরুপায় জামাল িপ্রয় তারকার ছবিতে অটোগ্রাফের জন্য খাটা পায়খানার গর্তে ঝঁাপ মারে। মল-মূত্র মেখে ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে অমিতাভ বচ্চনের সই আদায় করে। এই বিচিত্র দৃশ্যের মধ্য দিয়ে পরিচালক জামালের চরিত্রের ‘নেভার গিভ আপ’ সুরটি বেধে দেন। যার পরিণতি, সদ্য যৌবনে এসে গেম শোয়ের সর্বোচ্চ বাজি জেতায়। বিস্ততে ধর্মীয় দাঙ্গা বাধে। কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা মুসলমান নিগ্রহে সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। জামাল-সেলিমের মাকে ওরা হত্যা করে। আক্রমণকারীদের মধ্যে কৃষ্ণরূপী এক বালক আমাদের সমাজের িদ্বচারিতার মুখোশ অনাবৃত করে সংলাপহীন কয়েকটা শটের মাধ্যমে। সন্ধ্যালগ্নে একটা টিলার ওপর থেকে দুই সদ্য অনাথ শিশুর জ্বলন্ত বিস্তর দৃশ্য অবলোকন গভীর কাউন্টার পয়েেন্টর সৃিষ্ট করে। দাঙ্গার পরে প্রবল বৃিষ্টর রাতে দুই অনাথ বালকের সঙ্গে দেখা হয় আশ্রয়হীন আরেক বালিকার—লতিকা। এই দৃশ্যের দৃশ্যবিন্যাস অনবদ্য। আশ্রয়হীন বালক-বালিকাদের আশ্রয় দেয় সহৃদয় এক ব্যক্তি ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। ঘটনাচক্রে আমরা জানতে পারি যে, এরা চোখের মণি তুলে নেয়, কিডনি পাচার করে ও অসহায় কিশোরীদের পতিতালয়ে পাচার করে। দুই ভাই অসাধু এই গোষ্ঠীর বিরুেদ্ধ বিেদ্রাহ করে বালিকা লতিকাকে নিয়ে পালায়। রুদ্ধশ্বাস ওই দৃশ্যে মামন গোষ্ঠীর লোকেদের তাড়া খেয়ে জামাল ও সেলিমের েট্রনে উঠে যাওয়া ও অনেক চেষ্টা করেও লতিকাকে তুলতে না পারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চিত্রায়িত করেছেন পরিচালক ও চিত্রগ্রাহক।
টুকরো টুকরো ম্যাজিক রিয়্যালিজমের ছেঁায়া-লাগা দৃশ্যগুলো তৈরি হয় গেম শো ও থানায় পুলিশি জেরার ফঁাকফোকর দিয়ে। চিত্রনাট্য, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও পরিচালনার দক্ষতায় অতীত ও বর্তমান একাকার হয়ে একটা সাংগীতিক ব্যঞ্জনার সৃিষ্ট হয়।
এর পরবর্তী পর্যায় জামাল ও সেলিমের কৈশোর ও যৌবনে পদার্পণের একটা কোলাজ গোছের। দুই ভাইয়ের মুম্বই ছেড়ে চলে যাওয়া, অিস্তত্ব রক্ষার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কৈশোরে পদার্পণ। ওই পর্বে তাজমহলে গাইড হয়ে কিশোর জামালের বিদেশিদের সঙ্গে দৃশ্যগুলো খুবই রসগ্রাহী। চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক খুব সুচতুর ভাবে ভারতীয় চরিত্রগুলোর মুম্বইয়া হিিন্দ সংলাপকে ইংরেজি সংলাপে রূপান্তরিত করেন। একটা িদ্বভাষী ছবি সকল যুক্তি উপেক্ষা করে ইংরেজি ভাষার ছবিতে রূপান্তরিত হয়। এই ধরনের িট্রটমেন্ট সিনেমার ভাষায় এক ব্যতিক্রমী সংযোজন। কাকতালীয় ভাবে জামাল তার িপ্রয় লতিকাকে পতিতালয়ে খুজে পায়। সে এখন পূর্ণ কিশোরী। এর পরে শুরু হয় এক েপ্রমকাহিনি। লতিকাকে নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। মুম্বইয়ের অপরাধজগতের সঙ্গে নানা ঘটনাপ্রবাহে দুই ভাই ও লতিকার ত্রিকোণ েপ্রমের নাটক ও শেষমেশ হারিয়ে-যাওয়া েপ্রমিকার সঙ্গে জামালের মিলন। প্রথম পর্বের অসাধারণ ম্যাজিক রিয়্যালিজমের স্পর্শ ত্যাগ করে এই পর্ব থেকে ‘স্লামডগ মিলিওনেয়ার’-এর ছন্দপতন ঘটে। দক্ষ দৃশ্যগ্রহণ সেত্ত্বও চিত্রনাট্য মামুলি হয়ে পড়ে। অভিনবত্ব বিসর্জন দিয়ে আর দশটা বলিউডি ছবির ধাচে েপ্রম ও অপরাধজগতের গল্প বলা শুরু করে ড্যানি বয়েলের Q and A অবলম্বনে নির্মিত ‘স্লামডগ মিলিওনেয়ার’।
চাওয়ালা জামাল কোন মেধায় বলীয়ান হয়ে এত উপরে উঠে এল, সেই রহস্যের সন্ধান করতে উপস্থাপক তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠান। মাত্র কয়েকটা সংলাপে যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা ছাড়া পুরো ব্যাপারটা অস্বচ্ছ।
বিকাশ স্বরূপ-এর Q and A উপন্যাসে এই জায়গাটা ছিল বেশ শক্তিশালী। কী ভাবে গেম শোয়ের উদ্যোক্তারা স্বপ্নবিপণির জাল বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু সাহিত্য ও চলচ্চিত্র একে অপরের পরিপূরক হয়েও স্বতন্ত্র মাধ্যম। পাঠকের কৌতূহল বজায় রাখার জন্য মূল উপন্যাসের অংশবিশেষের উেল্লখ করলাম।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন অনিল কপূর, ইরফান খান, দেব পটেল, িফ্রডা পিেন্টা, সৌরভ শুক্ল প্রমুখ অভিনেতা। তবে বিশেষ ভাবে উেল্লখ করতে হয় জামাল, সেলিম ও লতিকার বাল্য ও কিশোর বয়সের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। তারা যথাক্রমে আয়ুষ মহেশ খেড়েকার, তনয় ছেডা, আজারুিদ্দন মহম্মদ ইসমাইল, আশুতোষ লোবো গাজিওয়াল, রুবায়না আলি ও তনভি গণেশ লাউকার। এই সব নতুন মুখকে খুজে পাওয়া ও অভিনয় শেখানোর জন্য কািস্টং পরিচালক, ওয়ার্কশপ প্রধান ও ড্যানি বয়েলকে বাহবা দিতে হয়।
চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও শব্দমিশ্রণের কাজ খুবই উচ্চ মানের। টাইটেল কার্ডে অসংখ্য ভারতীয় কলাকুশলীর নাম দেখে খুবই আনন্দ হবে আমাদের দর্শকবৃেন্দর।
প্রতিভাবান সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের করা আবহসংগীত এই চলচ্চিত্রে বিশেষ মাত্রা এনেছে। আবহসংগীতের সুপ্রয়োগে অনেক দৃশ্যের অন্তর্নিহিত ব্যঞ্জনা দর্শককে অবশ্যই আলোড়িত করবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে দু’টো গানের ব্যবহার আমার কাছে আহামরি কিছু বলে মনে হয়নি। গানের কেম্পাজিশন ও প্রয়োগে কোনও অভিনবত্ব নেই। ছবির মূল টাইটেল আসে একেবারে শেষে ‘জয় হো’ গানের সঙ্গে। আশা ও উদ্দীপনা প্রকাশের গান। খানিকটা মিউজিক ভিডিও স্টাইলে তোলা ও সম্পাদনা করা। ভিটি েস্টশনের প্ল্যাটফর্মে সদ্য যুবক, গেম শোয়ে সর্বোচ্চ পুরস্কার জেতা জামাল মালিক ও তার েপ্রমিকা লতিকার সঙ্গে অসংখ্য ছেলেমেয়ে গান গাইছে। মাঝে মাঝে ফিরে আসে ছেলেবেলার কিছু দৃশ্যের অংশবিশেষ। গাইতে গাইতে সকলে দুটো লোকাল েট্রনে উঠে পড়ে। েট্রন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যায়। মনোরম দৃশ্য। কিন্তু শিল্পসুষমায় উন্নীত হয় না। যেমনটি হয়েছিল ভিত্তোরিও ডি’সিকার ‘মিরাকল ইন মিলান’ ছবিতে। পাত্র-পাত্রীরা অসংখ্য বিস্তবাসীকে নিয়ে ঝাটায় চেপে আকাশের দিকে উড়ে যায়। কিল্পত ডানার উড়ানে দর্শক এক অনাবিল অপ্রত্যাশিত অনুভূতি নিয়ে হল থেকে বেরিয়ে আসে। ‘জয় হো’ উড়ানে সেই দম নেই। সমস্ত ছবি জুড়ে জামাল মালিকের যে একাগ্রতা ও উদ্দীপনা, তা খানিকটা ম্লান হয়ে যায় শেষ টাইটেল দৃশ্যে। কেমন যেন একটা চাপানো ‘ফিল গুড’ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা।
জীবন থেকে পাঠ যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, জামাল মালিকের গল্প তারই প্রতিভূ। হ্যান্স অ্যাণ্ডারসন-এর ভাষায় ‘‘নো টেলস আর ফাইনার দ্যান দোজ ক্রিয়েটেড বাই লাইফ ইটসেল্ফ’’। ‘স্লামডগ মিলিওনেয়ার’-এর অস্কারপ্রািপ্তর জন্য আগাম শুভেচ্ছা রইল।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment