| | ১৯ পৌষ ১৪১৫ শনিবার ৩ জানুয়ারি ২০০৯ |

পত্রিকার টেলিেস্কাপে এ বার টালিগঞ্জ ইণ্ডািষ্ট্রর ছায়াপথ। কোন গ্রহ-নক্ষত্র-নীহারিকার রহস্যময় টানে সেখানে সারা বছর ঘটতে থাকে ‘বিগ ব্যাং’। তৈরি হয় অফুরান শক্তির ভাণ্ডার! সেই গোপন মহাজাগতিক বিক্রিয়াই তো নির্ধারণ করে দেয় টালিগেঞ্জর সারা বছরের কক্ষপথ। আর, গত ২০০৮-এর সেই আবর্তন দেখতে দেখতেই এই তালিকা। চূড়ান্ত কিছু নয়, ফেলে-আসা বছরের মানদণ্ডেই নির্ধারিত হল এই সেলিিব্রটি-তালিকা।
আগামী বছর হয়তো নতুন কেউ ধরা দিতে পারেন এই লেেন্স, কেউ আবার ছিটকে যেতে পারেন নিজের কক্ষপথ থেকে। মহাজাগতিক শক্তিপুেঞ্জ এ রকমই নিয়ম!
আলো ছড়ানো কয়েকটি নক্ষত্রকে ইচ্ছা করেই এই তালিকায় রাখা হয়নি। সৌমিত্র চেট্টাপাধ্যায় এই বছরেই জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত, কিন্তু তিনি তো কিংবদিন্ত! এই ছায়াপথের কয়েক আলোকবর্ষ দূরে তার বাস। রাখা হল না মিঠুন চক্রবতর্ীকেও। ‘এম এল এ ফাটাকেষ্ট’ এখন বাংলা ছবির দুনিয়ায় প্রায় েস্বচ্ছাবসরে, তার দিকে টেলিেস্কাপ তাক না করাই যুক্তিসঙ্গত। আর, শেষে আমরাই চমকে গিয়েছি। ক্ষমতাবানদের তালিকায় আচমকা ঢুকে পড়েছে এক জড় পদার্থ। তামিল, তেলুগু ছবির ডিভিডি! টলি-আকাশে কোথা থেকে যে কী অজানা শক্তি বিচ্ছুরিত হয়!
আপাতত দেখে নেওয়া যাক, টলি-আকাশে শক্তির উৎস!

(বা দিক থেকে) স্বপন সাহা, প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রাজীব চেট্টাপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত,
মহেন্দ্র সোনি, শ্রীকান্ত মোহতা, কোয়েল মিল্লক, ঋতুপর্ণ ঘোষ, এন কে সলিল। ছবি: রানা বসু
| পাওয়ার লিস্ট ২০০৮ | |
| ১। প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায়
| ৭। অঞ্জন দত্ত
|
| প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায় | |
|
| কেন তিনি এখানে: পচিশ বছর পরেও যে হারে কাজ করে চলেছেন, তাতে টালিগেঞ্জর কলাকুশলীরা তাকে ‘ডুরাসেল’ ব্যাটারির সঙ্গে তুলনা করেন। ইট জাস্ট গোজ অন অ্যাণ্ড অন। তবে এ ভাবেও ফিরে আসা যায়! কারণ ২০০৬-এ এই তালিকা তৈরি হলে মোটেও প্রথম স্থানে থাকতেন না প্রসেনজিৎ। তখন বাংলা ছবির মধ্যগগনে মিঠুন চক্রবর্তী। ম্যাটিনি আইডল। কিন্তু ভাগ্যের চাকা, মিঠুন নিলেন টালিগঞ্জ থেকে এক রকম েস্বচ্ছাবসর। বেশ কিছু ছবি ফ্লপও হল মিঠুনের। প্রসেনজিতের ছবি তখন ফের গমগম করে চলছে। আর তার পর থেকেই একবাক্যে মিস্টার টলিউড প্রসেনজিৎ। এখন সব মিলিয়ে তার হাতে ১৩-১৪খানা ছবি। আজকের প্রসেনজিৎ কৈখালি থেকে কান-এর রেড কার্পেট, সব জায়গাতেই সাবলীল। তুরুপের তাস: স্বপন সাহার পাশাপাশি ঋতুপর্ণ ঘোষ। অঞ্জন দত্তের পাশাপাশি বাপ্পাদিত্য বেন্দ্যাপাধ্যায়। পিশ্চম বাংলায় তার ভক্তের সংখ্যা অগণিত। আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটতে ৩০ থেকে ৭০ সব বয়সী পরিচালকই চান বুম্বাদার সঙ্গে ছবি করতে। |
|
ফাকফোকর: বয়স বাড়ছে। কলেজ স্টুডেেন্টর রোল আর তার জন্য নয়। ‘চিনি কম’-এর অমিতাভ বচ্চন শাহরুখের ‘চক দে ইিণ্ডয়া’র কবীর খানের মতো রোল তিনি পাচ্ছেন না। এটাই তার কাছে সব চেয়ে বড় ‘েথ্রট’। অজানা তথ্য: প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায় যেখানেই যান, তার পোর্টেবল ডিভিডি েপ্লয়ারটি সঙ্গে নেন। ভদ্রলোক এতটাই সিনেমার পোকা যে, স্ত্রী অর্পিতা অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময়ে টিভি চালিয়ে সিনেমা দেখলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে বলে তিনি এই যন্ত্রটি বিদেশ থেকে আনিয়েছিলেন। যাতে রাত জেগে সিনেমা দেখার রুটিনে বাধা না পড়ে। | |
মণি-শ্রীকান্ত

| কেন তারা এখানে: ফর্মাল পোশাক পরিহিত এই দুই ভদ্রলোককে দূর থেকে দেখলে বহুজাতিক ব্যাঙ্কের পদস্থ কর্মচারী বলে ভুল হতে পারে। কিন্তু টালিগেঞ্জ এরাই হলেন এক নম্বর প্রযোজক জুটি। ভেঙ্কটেশ ফিল্মস শুধু প্রযোজক হওয়ার দরুনই এই পাওয়ার লিেস্ট দু’নম্বরে জায়গা পেয়েছেন, তা কিন্তু নয়। এর সঙ্গে যোগ করুন ওঁদের অসম্ভব শক্তিশালী ডিিষ্ট্রবিউশন নেটওয়ার্ক, নিজেদের মিউজিক চ্যানেল। এবং সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হল, পিশ্চমবঙ্গের প্রতিটি হল মালিককে নামে চেনা। অচেনা ছেলেমেয়েদের সুপারস্টার করে তোলার ক্ষমতা আছে। যেমন করেছিলেন জিৎকে (মনোমালিন্যের আগে), এখন যেমন করছেন দেবকে। তুরুপের তাস: বাংলা বাজারকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তাই লড়াইয়ের পর সাফল্যের চূড়ায় এরাই। একটা সময় ছিল, যখন বহু হল মালিক এবং পরিবেশক তাদের বিস্তর ঠকিয়েছিলেন। সেই ভুলগুলো থেকে তারা শিখেছেন, শত্রুদের চিনেছেন। তাই তারা এখন অনেক বেশি কঠোর। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযোজকদেরও ছবির ব্যাপারে এবং আর্থিক ভাবে সাহায্য করার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তাদের। টালিগেঞ্জর মত: আজ এমন উচ্চতায় পৌছেছেন, পরিবেশকেরা মণি-শ্রীকােন্তর সঙ্গে আলোচনায় না বসে কলকাতায় ছবি রিলিজ করার কথা ভাবতেও পারেন না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন। আর তাই প্রত্যন্ত সব অঞ্চলেও কিউব এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি দেখান। বাংলা টেলিভিশনে তাদের পদার্পণ রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দিয়েছে অভিজ্ঞ টেলিভিশন প্রযোজকদের মনে। অনেকেরই ধারণা, কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলা ছবির মতো বাংলা টেলিভিশনেও এরাই একচ্ছত্র আধিপত্য করবেন। ফাকফোকর: নিজেদের হলে নিজেদের ছবি টাঙিয়ে রেখে হিট দেখানোর চেষ্টা ঢাকা যাচ্ছে না। ছলেবলে, যেনতেন প্রকারেণ বাংলা ছবির বাজার নিজেদের হাতের মুঠোয় রাখার চেষ্টা। এর জন্য টালিগেঞ্জর বাকি প্রযোজকেরা নিজেদের মধ্যেকার ঝগড়াবিবাদ ভুলে একজোট হয়ে ভেঙ্কটেশ ফিল্মসকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছেন। অনেক শত্রু তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। অজানা তথ্য: ফিল্ম প্রযোজনা করার আগে এরা দু’জন রাখির ব্যবসা করতেন। বংশ পরম্পরায় পঞ্চাশ বছর ধরে রাখির ব্যবসা করছেন। সারা বিেশ্ব রাখি রফতানি করেন তারা। |
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
| কেন তিনি এখানে: ইণ্ডািষ্ট্রর এক নম্বর নায়ক তার সঙ্গে আর জুটি বাধেন না। দু’জনের সম্পর্ক সাবেক সোভিয়েত আমেরিকা ঠাণ্ডা যুেদ্ধর চেয়েও শীতল এবং নিস্পৃহ। জিৎ এবং যিশুর সঙ্গেও ২০০৮-এ ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি তাকে। নায়ক নেই, স্বপন সাহা বা হরনাথ চক্রবতর্রী মতো মেগা-পরিচালকদের থেকেও তিনি আর ডাক পান না। তবু কী অনন্য এই গ্ল্যামারধৌতি! আজও বিজ্ঞাপনী এেণ্ডার্সমেন্ট থেকে এই কনককন্যা অক্লেশে ডাক দেন নতুন প্রজেন্মর মেয়েদের, ‘‘একটু বদলাও। আমার মতো সেজে নাও।’’ আর শুধু তো বিজ্ঞাপন নয়! তাকে ছাড়া এখনও ভাবা যায় না ‘চতুরঙ্গ’-এর দামিনী। মেগানায়ক আর মেগাপরিচালক ছাড়াও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আজও টালিগঞ্জ ইণ্ডািষ্ট্রকে যে ভাবে স্পিন্দত করেন তার নিজস্ব ‘অনুরণন’-এ, তাতেই প্রমাণ, আজও টলিউডের নায়িকা-সাম্রাজ্যের রাশ তার হাতেই। তুরুপের তাস: ‘চতুরঙ্গ’ অথবা ‘মন আমুর, শেষের কবিতা’। মনের গহনে ডুব-দেওয়া, একটু অন্য রকম নায়িকা মানেই |
|
| ঋতুপর্ণা! তার চুম্বকেই তো শহুরে দর্শক ভিড় জমায় অন্য ধারার এই সব ছবিতে। কয়েক বছর আগে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ মার্কা ইমেজ থেকে যে ভাবে আেস্ত আেস্ত বেরিয়ে এসেছেন ঋতুপর্ণা, সেখানে এই মোহময়ী নাগরিক আভিজাত্যই তার তুরুপের তাস। আর সেটাই সব নয়। সব সৌন্দর্যে রহস্য থাকে না, কোনও কোনও নারীর মধ্যে থাকে। ঋতুপর্ণার হাসি আর ভ্রুভঙ্গিতে সেই অমোঘ রহস্য অস্বীকার করে কে? টালিগেঞ্জর মত: প্রসেনজিতের সঙ্গে টক্কর নিয়েও নিজের মতো ব্যাটিং করে যাচ্ছেন। অন্য কেউ হলে এমনটা কল্পনাই করা যেত না! ফাকফোকর: টিন-এজ লাভ েস্টারির এই যুগে যে ভাবে বন্যার মতো নতুন নায়িকারা ধেয়ে আসছেন, তাতে আচমকা ঋতুপর্ণার অজ্ঞাতেই তার পায়ের নীচের মাটি সরে যেতে পারে। ফিরদৌসের সঙ্গে জুটি বাধার যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন, তাও সফল হয়নি। জুটি না-থাকার ফাক বেয়েই হয়তো ঋতুপর্ণার কেরিয়ারের বাসরঘরে ঢুকে পড়তে পারে সাপ! অজানা তথ্য: বারাক ওবামা থেকে সলমন রুশদির নতুন উপন্যাস সবই এখন গোগ্রাসে পড়ছেন তিনি। এত তুরন্ত গতির বহুভোজী পাঠিকা ঋতুপর্ণা আগে ছিলেন না। এখন পড়ার ফাকে কলমও তুলে নিয়েছেন হাতে, লিখছেন চিত্রনাট্য। ঋতুপর্ণার চিত্রনাট্যে হয়তো অচিরেই বাংলা ছবিতে আসতে পারে নতুন কোনও চমক! | |
স্বপন সাহা
|
| কেন তিনি এখানে: সময়ের সঙ্গে পাল্টাতে জানেন তিনি। এক সময় পার্ক িষ্ট্রটের কোনও রেেস্তারায় যেতে ভয় পেতেন, এখন কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে কাজ করছেন। আগে তিনি একই সময়ে একাধিক ছবি ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ করে শুট করতেন, এখন শুটিং েফ্লারে নামার আগে রীতিমতো অভিনয়ের ওয়ার্কশপ করাচ্ছেন। আগে ‘বাবা কেন চাকর’-এর মতো ছবি বানাতেন, এখন অত্যাধুুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সব ধরনের দর্শকের মন জয় করতে চাইছেন। এক সময় তাকে ‘মেলোড্রামার মাস্টার’ বলা হত, কিন্তু ২০০৮-এর শেষে এসে তিনি দৃিষ্টভঙ্গি বদলেছেন। তুরুপের তাস: বাণিজ্যিক সিনেমাও যে অ্যাসেম্বলি লাইনে ফেলা যায়, সেটা স্বপন সাহার আগে টালিগেঞ্জ কেউ বুঝতেও পারেননি। কথা বলেন কম। তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না, তিনি একসঙ্গে কতগুলো ছবির কাজ সামলাচ্ছেন। কোন ছবিতে কে কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন, কখন কার কল টাইম, কোন ছবিটা কোন দক্ষিণ ভারতীয় ডিভিডি থেকে তোলা হয়েছে এবং সেখানে কী কী পাল্টানো হয়েছে, সব হিসেব তার মাথায়। যেন একাই একটা সুপার কিম্পউটার। |
|
ফাকফোকর: মৌলিক চিন্তাভাবনার অভাব। আগে বাংলাদেশ থেকে নকল করে ছবি বানাতেন। এখন দক্ষিণ ভারতীয় ছবির নকল করেন। অজানা তথ্য: স্বপন সাহার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে প্রসেনজিৎ চেট্টাপাধ্যায়ও িদ্বধা করেন না। এতটাই সম্মানের চোখে তাকে দেখে টালিগঞ্জ। | |
ঋতুপর্ণ ঘোষ
| কেন তিনি এখানে: বললে হবে? একমাত্র তার ফোনেই কলকাতার স্টুডিওয় উড়ে আসেন অমিতাভ বচ্চন। অমিতাভ থেকে অভিষেক, শর্মিলা ঠাকুর থেকে সোহা আলি খান, অপর্ণা সেন থেকে কঙ্কণা সেনশর্মা, মুনমুন থেকে রাইমা-রিয়া সেন...দুই প্রজন্মকে ডান হাতে বা হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে কী ভাবে রুপোলি পর্দায় ভাসিয়ে দেন ঋতুপর্ণ! এবং এই নাক ঁসিটকানো কলকাতার স্টুডিও তার কৃপাতেই দেখতে পায় গ্ল্যমারোজ্জ্বল ঐশ্বর্যা, প্রীতি, বিপাশা, মনীষাদের..... তুরুপের তাস: ব্ল্যাক অ্যাণ্ড হোয়াইট অ্যাণ্ড গ্রে... নিউট্রাল কালারধমর্ী েপ্রক্ষাপটকে ক্যানভাসের মতো রেখে, তার ওপর চূড়ান্ত আবেগ... দুরন্ত িস্ক্রপ্ট... এবং মুম্বইয়া গ্ল্যামার মিশিয়ে তিনি এমন সোনাসোনা ছবি বানান যে, শহুরে বাঙালি নড়েচড়ে বাংলা ছবি দেখতে ঢোকে মৃদু হেসে। মনের ব্যাকগ্রাউেণ্ড হাল্কা ভাবে বাজতে থাকে সত্যজিৎ, মৃণাল... টালিগেঞ্জর মত: ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেতে হলে ঋতুপর্ণর ছবিই করতে হবে। |
|
|
অজানা তথ্য: ঘরোয়া কথার মাঝে বলার অভ্যাস, ‘বোকার মরণ’। | |
কোয়েল মিল্লক
| | কেন তিনি এখানে: ভাগ্য হোক আর যাই হোক কোয়েলের ছবির সাকসেস রেট খুব বেশি। টালিগেঞ্জর সব চেয়ে নির্ভরশীল নায়িকা হয়ে উঠছেন সংযত ভাবে, ধীরে ধীরে। ২০০৭-এ হিট ছিল ‘নবাবনিন্দনী’। এই মুহূর্তে ভাল চলছে ‘মন মানে না’। এই তালিকায় তিনি এত ওপরে, তার অন্যতম কারণ প্রযোজক সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গে কোয়েলের সুমধুর সম্পর্ক। ফলে বড় বাজেটের ছবির কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে এই সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মূলে রয়েছে একের পর এক তার অভিনয়ে হিট ছবি। চিত্রনাট্য ভাল করে পড়ে বাছাই করা ছবিতে অভিনয় করেন, যেখানে তার অভিনয় দেখানোর সুযোগ আছে। বক্স অফিসের সাফল্যের কথা ভাবলে এক ডাকে প্রযোজক-পরিচালকদের কোয়েল মিল্লকের কথা মনে আসে। তুরুপের তাস: কেউ কঠোর সমালোচনা করলেও চট করে পাল্টা জবাব দিয়ে গায়ের ঝাল মেটানোর কথা ভাবতেই পারেন না। |
| এক কথায় কূটনীতিক। খুব মাপা। হাসিমুখে কথা বলেন। এতটাই মিষ্টভাষী যে, কািস্টং লিস্ট করতে বসলে প্রযোজক পরিচালকদের তার কথা মনে পড়বেই। অিপ্রয় প্রসঙ্গ বা কথা এড়িয়ে যান। সহিষ্ণুতা খুব বেশি। টালিগেঞ্জর মত: অনেক সময় নায়িকাদের নানা রকম বাহানা থাকে, কোয়েলের তা একেবারেই নেই। যে কোনও শুটিং ইউনিটের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলার অভ্যেস। শুটিংয়ে আসেন একদম সময়মতো। প্রতিটা শট বুঝে নেওয়া, এবং নানা ভাবে একই শট দিয়ে সেরা পারফরম্যান্সটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফাকফোকর: জিতের সঙ্গে জেম্পশ জুটির পর আজও আর কোনও জুটি হয়নি। অভিনয়েও আরও ঘষামাজা দরকার। তা ছাড়া ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গে অতিরিক্ত যোগাযোগ থাকাটার সুবিধেটাই হয়তো তার সব চেয়ে বড় অসুবিধে হয়ে দাড়াতে পারে। যেমন সম্প্রতি ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ‘মন মানে না’ ছবিটিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে জি মোশন পিকচার্সের প্রযোজনায় ‘চিরসাথী’ ছবিটির প্রচারে সে ভাবে যাননি। জি টিভি তার প্রতি অসন্তুষ্ট। কাল অন্য প্রযোজকেরাও এর ফলে স্বিস্তকা মুখোপাধ্যায়ের দিকে ঢলে পড়তে পারেন। অজানা তথ্য: ছবি রিলিজ করার দিন সব চেয়ে বেশি বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা মারেন, মিটিং করেন। ভুলেই থাকতে চান ছবি রিলিজের বুক দুরুদুরুটা। | |
অঞ্জন দত্ত
| কেন তিনি এখানে: ভদ্রলোকের িস্ক্রপ্ট তরুণ প্রজেন্মর বিন্দাস ভাষায় কথা বলে। একমাত্র বাঙালি পরিচালক, যার ছবি দেখতে কনভেন্ট স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা হলে ঢোকে। পাশ্চাত্য ঢঙে ‘বং-লিশ’ ছবি, বব ডিলান থেকে ‘পাগলা হাওয়া বাদল দিনে’, সবেতেই তিনি সমান সুরেলা। তুরুপের তাস: উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে দার্জিলিংয়ের দুর্ধর্ষ মার্কেটিং। অঞ্জন দত্তের ছবি হলেই বাণিজ্যিক বাংলা ছবির গানের সিডির ভাল কাটতি। টালিগেঞ্জর মত: টিভি শিল্পীদের দিয়ে অভিনয়ের ওপর ভরসা রাখেন। প্রযোজকের পকেট বুঝে ছবি করেন। প্যাকেজিং ভাল, মাস অ্যাপিলও আছে। অঞ্জন দত্ত গভীর মেলোড্রামা করেন না। গভীর বোধের কথাও হাল্কা চালে বলে বেরিয়ে যান। |
|
| ফাকফোকর: ঝাকে ঝাকে নতুন পরিচালক আসছেন টালিগেঞ্জ। এই জোয়ারে তারুণ্যের ‘ট্রাম্পকার্ড’ নিয়ে পয়লা নম্বরে পৌছতে পারবেন তো? অজানা তথ্য: েফ্লারে কোনও শট পছন্দ হলে, অঞ্জন দত্ত চোখের জল ধরে রাখতে পারেন না। চোখ মুছতে মুছতে সেট থেকে বেরিয়ে, বাইরে গিয়ে একটা সিগারেট খেয়ে গম্ভীর মুখে ফিরে এসে আবার শুটিং শুরু করে বলেন, ‘‘চলো লেটস গো।’’ | |
| জি টেলিফিল্মস এবং রাজীব চেট্টাপাধ্যায় |
| কেন তিনি এখানে: সুদর্শন কর্পোরেট প্রযোজক যিনি টালিগেঞ্জ এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। মহীন্দ্রা বা রিলায়েেন্সর মতো কোম্পানিকে পেছনে ফেলে ‘মীরাক্কেল’, মিঠুনের ‘ডান্স বাংলা ডান্স’, ‘সারেগামাপা’র মতো একের পর এক জনিপ্রয় শো আছড়ে ফেললেন টিভিতে। টিভি পেরিয়ে তিনি এখন বাংলা ছবিরও ‘মিস্টার মানিব্যাগ’। হাতে? দশটা ছবি। তুরুপের তাস: ‘বোর্ডরুম কালচার’ নিয়ে এলেন টালিগঞ্জ ইণ্ডািষ্ট্রতে। মনে করেন, ফিল্ম ইনিস্টটিউটের ছাত্রছাত্রীরাই বাংলা ইণ্ডািষ্ট্রর ভরসা। টালিগেঞ্জর মত: ‘ম্যান অন আ মিশন’। নতুন পরিচালক, নতুন নায়কদের সঙ্গে কাজ করছেন। বাংলা ছবিকে একটা নতুন পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফাকফোকর: আশঙ্কা, এই মন্দার বাজারেও যে দ্রুতগতিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তার ছবি তৈরির উদ্যম হোচট না খায়। কারণ অনেক ছবি চিন্তাভাবনার স্তরেই আটকে আছে। আর বাণিজ্যিক ভাবে এখনও পর্যন্ত সিনেমায় তেমন সাফল্য নেই। ইণ্ডািষ্ট্রতে জোর রটনা, সুযোগসন্ধানী বন্ধুেত্বর চালে আটকে পড়ছেন রাজীব। অজানা তথ্য: হায়দরাবাদে আজহারউিদ্দনের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। সময় পেলেই পড়েন ইমরান খানের আত্মজীবনী। মিঠুনের সঙ্গে আড্ডায় বসে যান ফুটবল নিয়ে। |
এন কে সলিল
|
| কেন তিনি এখানে: টলিউডে চিত্রনাট্যকার হিসেবে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পান। ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের মতো বড় প্রযোজক সংস্থার সুনজরে থেকে ভাল কাজ করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন বারবার। অন্য প্রযোজকদের কাছেও হয়ে উঠছেন অপরিহার্য চিত্রনাট্যকার। প্রবীণ ও নবীন পরিচালক-সহ মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ এবং নতুন প্রজেন্মর নায়ক নায়িকারাও পছন্দ করেন সলিলকে। তার লেখা সংলাপ ‘মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে’ ‘পাবলিকের মার, কেওড়াতলা পার’ লোকের মুখে মুখে ফিরেছে এই জন্যই। চার পাশের মানুষ, দৈনিন্দন জীবনের নানা ঘটনা, খবরের কাগজের সাড়াজাগানো খবর বা নিতান্ত মামুলি খবরও হয়ে উঠতে পারে তার কাহিনি-চিত্রনাট্যের অঙ্গ। দর্শক সেই জন্যই তার কাহিনি-সংলাপের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন। তুরুপের তাস: সমসাময়িক যে কোনও ঘটনাকে অতি সহজে সিনেমার গেল্প রূপান্তরিত করতে পারেন। সংলাপ রচনায় কখনও পুনরাবৃত্তি ঘটে না। |
|
ফাকফোকর: আজকে িস্ক্রপ্ট লিখব, কালকে অ্যািক্টং করব, পরশু পরিচালনা করব, এত কিছু করলে সামলাতে পারবেন তো? অজানা তথ্য: চিত্রনাট্য লেখেন ল্যাপটপে। তাও আবার বাংলায়। | |
| তামিল-তেলুগু ডিভিডি |
| কেন তিনি এখানে: এই ফাইবারের চাকতিগুলিই কয়েক বছর ধরে বাংলা ছবির সেলিম-জাভেদ। কেন? ‘রিফিউজি’ টোকা তেলুগু ‘ছত্রপতি’ থেকে। ‘গোলমাল’ এল তামিল ছবি ‘হনুমান জংশন’ থেকে। ‘ভালবাসা ভালবাসা’ টোকা তামিল ‘বোম্মালেরু’ থেকে। এমনকী েপ্রমের বাজারেও তামিল-তেলুগু মা কি জয়! ছ’কোটি ব্যবসার ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ তামিল ছবি ‘কাদিল’ থেকে টোকা, যা আবার তেলুগু ছবি ‘েপ্রমিেস্থ’র কপি। মা গো, ‘তুলকালাম’টা কী করে যে হিট করল, কপি ছাড়াই! তুরুপের তাস: কী মজা! কপিরাইট নিয়ে খুব বেশি কড়াকড়ি নেই দক্ষিণে। ফলে, ছবি নকল করাও সোজা। বাঙালি দর্শক দক্ষিণের ছবির সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় এগুলো যে অনুকরণ, তারা ধরতেই পারেন না। টালিগেঞ্জর মত: গেল্পর সঙ্গে সঙ্গে যেহেতু লোকেশনও টোকা হয় তাই দেখতে ভাল লাগে। কখনও ভাইজাগে, কখনও মহীশূরে, কখনও কেরলের ব্যাকওয়াটারে, যেখানে সাউথ ইিণ্ডয়ান হিরোরা নেচে আসেন, সেখানে গিয়ে নাচেন আমাদের দেব-হিরণরাও। তামিল-তেলুগুর টেকনিশিয়ানরাও ‘অ্যাকশন’ বলে চলে আসেন বাংলা ইণ্ডািষ্ট্রতে। হয়ে যায় বাংলা-তামিল ভাই-ভাই! ফাকফোকর: সাহিত্যাশ্রয়ী গেল্পর অভাব। একঘেয়ে হয়ে যেতে বাধ্য। বাঙালিয়ানার এত ফাক বাঙালি বেশি দিন নেবে তো? অজানা তথ্য: বাংলায় অনুবাদ করার জন্য অনুবাদকদের ছবি পিছু পারিশ্রমিক পাচ হাজার টাকা। বাহ্! |
স্ট্যাণ্ড বাই
| স্বিস্তকা মুখোপাধ্যায়
তবে জিতের সঙ্গে জুটির সমীকরণের রসায়ন ঘিরে তিনি যে ভাবে এগোতে চেয়েছিলেন সেই কেমিিষ্ট্র মুখ থুবড়ে পড়েছে এ বছর। সৌন্দর্য এবং অভিনয়ের বাকি সমস্ত উপকরণ মজুত থাকলেও কেবল হিসেবের গরমিলে তালিকায় এলেন না তিনি। নতুন বছরে মেগা প্রযোজকদের সঙ্গে সম্পর্কে উন্নতি হলে কে বলতে পারে নায়িকা দৌড়ে তিনিই এগিয়ে যাবেন। |
|
|
| দেব
|
স্টাইলিং সহায়তা: অনিরুদ্ধ চাকলাদার, শুটিং স্থল: রয়্যাল ক্যালকাটা গল্ফ ক্লাব









No comments:
Post a Comment